সব মৃত্যু, সব সমাপনই দুঃখের, হাহাকারের। তবে কারো কারো চলে যাওয়ার ভার বোধ হয় একটু বেশিই। শক্তিমান ক্রীড়া লেখক, স্বনামধন্য ক্রিকেট কোচ জালাল চৌধুরী, বয়সের বিস্তর পার্থক্য সত্ত্বেও আমাদের অনেকের কাছে ‘জালাল ভাই’ চলে গেলেন একটু আগে। তার চলে যাওয়ার আভাস তৈরি হচ্ছিল কদিন ধরেই, মানসিক একটা প্রস্তুতি তাই ছিল। তবে নিউজটা লেখার সময় কেমন একটা অনুভূতি হলো, স্মৃতিরা ভিড় করল, ওনার কণ্ঠটাও যেন শুনলাম।
ছোটবেলায় পত্রিকার পাতায় ওনার লেখা পড়েছি। অনেক অনেক পরে এসে দেখা এবং পরিচয়। আমার যখন ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু তত দিনে উনি অনেকটাই অবসর জীবনে। তবু লিখতেন এবং খেলা দেখতে প্রায়ই প্রেসবক্সে আসতেন।
প্রেসবক্সেই ওনার সঙ্গে কত কত কথা হয়েছে। উনি এবং আমি কমলালেবুর ঘ্রাণমাখা একই অঞ্চলের মানুষ। ১৯৪৭ সালে যখন সিলেটের পাঁজর থেকে করিমগঞ্জ, শিলচর— এসব এলাকা ছুটে যাই, সেই উত্তাল সময়েই বোধ হয় ওনার করিমগঞ্জে জন্ম। পরিবারের সঙ্গে পরে এপারে চলে আসেন, আচমকা জন্মভূমি হয়ে যায় ভিনদেশ। সেসব নিয়েও অনেক কথা হয়েছে।
যেকোনো ক্লাসিক্যাল ক্রিকেট ম্যাচ হলেই জালাল ভাইকে মিস করব খুব। কারো দারুণ কোনো ব্যাটিং, কোনো পেসারের দুর্ধর্ষ কোনো স্পেল হলেই ফেসবুকে ভেসে উঠত তার পোস্ট। আর কদিন পরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিশ্চিতভাবেই জালাল ভাইয়ের কত কত পোস্ট অপেক্ষা করছিল।
জালাল ভাইকে বিদায় জানাচ্ছি না, শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, কুর্নিশ জানাচ্ছি, ভালোবাসা জানাচ্ছি—‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহ দহন লাগে’








































