ভিপিএনে ঝুঁকছে মানুষ, কারা ব্যবহার করেন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৪, ০২:১২ পিএম
ভিপিএনে ঝুঁকছে মানুষ, কারা ব্যবহার করেন
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট চালু হয়েছে। তবে গতি সন্তোষজনক নয়। ইন্টারনেট সেবা চালু হলেও আপাতত বন্ধই রয়েছে জনপ্রিয় দুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটক। তাই নিরুপায় হয়ে মানুষ ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করছেন। তবে সব ভিপিএনই আপনার জন্য নিরাপদ নয়। রয়েছে তথ্য চুরিসহ বিভিন্ন সমস্যা।
ভিপিএন শব্দটার সঙ্গে আমরা প্রায় সবাই কমবেশি পরিচিত। ভিপিএনের পূর্ণ রূপ হচ্ছে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Virtual private network)। ভিপিএন ইন্টারনেটের এমন ভার্চুয়াল বা কাল্পনিক প্রাইভেট নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। সহজভাবে বললে, VPN একটা কাল্পনিক ‘টানেল’ বা সুড়ঙ্গের মতো।
ডিজিটাল এই সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে ভিপিএনের (VPN) জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ভিপিএন ব্যবহার করে সহজেই একটি ভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত প্রাইভেট নেটওয়ার্কের সঙ্গে কোনো ডিভাইসকে সংযুক্ত করা যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশে ইন্টারনেট সেবায় অস্থিরতার মাঝে অনেকেই ভিপিএন ব্যবহার করছেন।
অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আছে যারা ভিপিএন তৈরি করে। এর মধ্যে কিছু ভিপিএন পেইড বা ব্যবহারের জন্য অর্থ খরচ করতে হয়। আবার কিছু কিছু কোম্পানি তাদের ভিপিএনগুলো বিনা মূল্যে সব ধরনের মোবাইলে ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

বিনা মূল্যে ব্যবহারের জন্য সেরা তিনটি ভিপিএন (VPN)
প্রোটন ভিপিএন (ProtonVPN)
এই ভিপিএনটি তৈরি করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রোটন টেকনোলজিস এজি। প্রোটন ভিপিএন শক্তিশালী এনক্রিপশন প্রোটোকল এবং একটি কঠোর নো-লগ নীতি (ব্যবহারকারীদের আইপি অ্যাড্রেস এবং ব্রাউজিং হিস্টোরিসহ কোনো ডাটা সংগ্রহ করে না) মেনে চলে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে তারা অগ্রাধিকার দেয়।
প্রোটন ভিপিএন একটি বিশ্বব্যাপী সার্ভার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। তবে বিনামূল্যে ব্যবহার করলে এই ভিপিএনের সুবিধাগুলো সীমিত আকারে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের নিরাপত্তাসচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি হতে পারে ভালো একটি অপশন।

WARP 1.1.1.1

WARP 1.1.1.1 তৈরি করেছে ক্লাউডফ্লেয়ার। এটি নিরাপদ এবং দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগের উপর গুরুত্ব দেয়া একটি মোবাইল অ্যাপ। নিরাপদ ব্রাউজিং এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি ক্লাউডফ্লেয়ারের গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সুবিধা দেয়। যদিও প্রথাগত ভিপিএনের সব সুবিধা WARP দেয় না। তবে যেসব মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিনামূল্যে এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য সমাধান খুঁজছেন তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প।

অ্যাটলাস ভিপিএন (AtlasVPN)

পিকস্টার টেকনোলজিস ইনকর্পোরেটেড এই ভিপিএনটি তৈরি করেছে। অ্যাটলাস ভিপিএন শক্তিশালী এনক্রিপশন এবং নো-লগ নীতিসহ নিরাপদ ব্রাউজিং অফার করে। ফ্রি প্ল্যানটিতে মৌলিক কিছু ফিচার ব্যবহার করা যায়। তবে এটি আপনাকে অনলাইনে পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ দেবে।

মনে রাখা ভালো, ফ্রি ভিপিএনে সাধারণত নানান সীমাবদ্ধতা থাকে। এর মধ্যে থাকতে পারে ডাটার সীমাবদ্ধতা, ধীরগতি এবং সীমাবদ্ধ সার্ভার অ্যাক্সেস।
ফ্রি ভিপিএন নির্বাচন করার আগে, সতর্কতার সঙ্গে আপনার প্রয়োজন বিবেচনা করুন। যদি শুধুমাত্র বেসিক কিছু কাজের জন্য মাঝে মাঝে ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তাহলে বিনামূল্যের প্ল্যানই যথেষ্ট হতে পারে। তবে ভারী ব্যবহার বা কাজের জন্য অর্থ খরচ করে প্ল্যান কেনা লাগতে পারে।
সব ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট গোপনীয়তা নীতি এবং নিরাপত্তার ট্র্যাক রেকর্ডসহ স্বনামধন্য ভিপিএনটি বেছে নিন।

ভিপিএন কারা ব্যবহার করেন

বিভিন্ন কারণে এই ভিপিএন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ে। ভিপিএন ব্যবহারে সুবিধার পাশাপাশি নানারকম ঝুঁকি ও অসুবিধা আছে। এর মধ্যে কিছু নিরাপদ আবার কিছু অনিরাপদ ভিপিএন আছে। প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা জানান, অনিরাপদ ভিপিএন ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা আছে। ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যক্তিগত সুরক্ষা, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং অপ্রবেশযোগ্য কনটেন্ট দেখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়েছে ভিপিএন। তবে ভিপিএন ব্যবহার করা অবস্থায় ব্যাংক কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নব্বইয়ের দশকে ভিপিএনের আবির্ভাব ঘটেছে। মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই ভিপিএন ব্যবহার করা হলেও স্ট্রিমিং, গোপনীয়তা, গেমিং, ভ্রমণ এবং নিষিদ্ধ সাইট ও কনটেন্টে অ্যাকসেস পেতেও ভিপিএন ব্যবহার করা হয়। শুরুতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে ব্যক্তি পর্যায়েই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গুগল প্লে স্টোরে শীর্ষ ডাউনলোড করা পাঁচটি অ্যাপসের মধ্যে চারটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিপিএন। এরপর আছে টিকটক।

বর্তমানে অসংখ্য ভিপিএন সফটওয়্যার ও অ্যাপ পাওয়া যায়। এই ভিপিএন টুল ডাউনলোড করার সময় ডিভাইস, ফেসবুক, ই-মেইলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ভিপিএন নির্মাতার কাছে। এ ঝুঁকির পাশাপাশি অনেক সময় ইন্টারনেটের গতিও কমে যায়।

Link copied!