সিজেস নির্বাচনে তালুকদার-মনিরুজ্জামান পরিষদের জয়


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৩, ০৬:৪৯ পিএম
সিজেস নির্বাচনে তালুকদার-মনিরুজ্জামান পরিষদের জয়

সিরাজগঞ্জ জেলা সমিতি (সিজেস), ঢাকার ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে এস আর তালুকদার-সৈয়দ মনিরুজ্জামান পরিষদ বিপুল ব্যাবধানে জয়লাভ করেছে। তারা ৪৯টি পদের মধ্যে ৪৮টিতে জয় পেয়েছে। একটি মাত্র পদে জয় পেয়েছে আলী আকবর হায়দার-আব্দুস ছাত্তার প্যানেল।

রোববার (১ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-২-এ সমিতিরি নিজস্ব ভবনে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আবু সাইদ। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ড. হোসেন মনসুর। তিনি বিদেশে অবস্থান করায় এম এ আবু সাইদকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে, গত শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সমিতির নিজস্ব ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশ দিনব্যাপী ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির ১ হাজার ৮০০ ভোটারের মাঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ১ হাজার ২২৩ জন।

নির্বাচনে ৬৩৬ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে জয়লাভ করেছেন ইঞ্জিনিয়ার এস আর তালুকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর হায়দার পেয়েছেন ৪০৩ ভোট। আর সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ মনিরুজ্জামান ৬৪৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার পেয়েছেন ৩৫৭ ভোট।

জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ৫৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি-১, ২, ৩ ও ৪ পদে যথাক্রমে আনোয়ার হোসেন (৫৯৪ ভোট), নাসিরউদ্দিন বাদল (৫৮৪ ভোট), মুনজুর হাসান ভূঁইয়া (৬১৬ ভোট), জহুরুল ইসলাম (মিল্টন) (৬৫৭ ভোট) জয়লাভ করেছেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ পদে শাহীন কামাল ৫৯৬ ভোট পেয়ে হারিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের মতিন খানকে (৩৯৮ ভোট)। এদিকে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-২ পদে আব্দুল আওয়ালকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন যুবনেতা ফিরোজ আল আমিন। তিনি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৬৭৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৩৪৫ ভোট।

অর্থ সম্পাদক পদে নবী নেওয়াজ খান বিনু ৬৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ৩৬৭ ভোট। এছাড়া সহ অর্থ সম্পাদক আব্দুল লতিফ বুলবুল ৬২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

এদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সিরাজুল ইসলাম রনি ৫৬৮ ভোট, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রাজু ৬১২ ভোট, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মনিরুজ্জামান ৫৭৫ ভোট এবং সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে নূরুল ইসলাম (প্রতীক মাহমুদ) ৬২০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।

আর দফতর সম্পাদক পদে ৫৯৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন মো. মাসুদ রানা। আর সহ দফতর সম্পাদক পদে মনিরুল ইসলাম খান ৬০৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এছাড়া আইন শৃঙ্খলা সম্পাদক পদে ৬৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সামিউল আলম (লিটন)।

সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শেখ আব্দুল হান্নান জয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৬০৯। আর ক্রীড়া সম্পাদক পদে আব্দুল হালিম ৫৭২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। মহিলা সম্পাদক পদে ৫৩৭ ভোট পেয়ে জিতেছেন হোসনে আরা লাভলী। আর সহ মহিলা সম্পাদক পদে ৬১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নাজমুন নাহার।

এছাড়া লাইব্রেরি সম্পাদক পদে ইফতে খারুল ৫৭৯ ভোট, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে এস এম রহমাতুল মুমিন সিদ্দিকী (মামুন) ৫৯৪ ভোট, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সম্পাদক পদে আব্দুর রউফ সরকার (পরান) ৫৯১ ভোট, মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ৬০৩ ভোট, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে আনোয়ারুল ইসলাম মাসুম ৬০৩ ভোট, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক পদে কাজী জহিরুল ইসলাম টিপু ৬১৫ ভোট এবং সহ ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক পদে সুমন কুমার নন্দী ৬০১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।

অপরদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর হায়দার-বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার প্যানেল থেকে একমাত্র ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক পদে ৫১৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন নূর হোসেন সৈকত। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সোলাইমান হোসাইন পেয়েছেন ৪৭৮ ভোট।

এর বাইরেও নির্বাহী সদস্য (জেলাভিত্তিক) পদে ১০ জন এবং নির্বাহী সদস্য (উপজেলাভিত্তিক) পদে ৯ জন জয়লাভ করেছেন। নির্বাহী সদস্য (জেলাভিত্তিক) পদে যারা জয় পেছেন তারা হলেন- ড. মো. আবু সাইদ খান, ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইফুল ইসলাম (শাহীন), কে এম মনোয়ারুল ইসলাম (বিপুল), মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সাইদুজ্জামান হাসু, মো. সাইদুল ইসলাম, মো. আইনুল হক, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ, মো. সুলতান হাফিজ খান ও মো. আব্দুল্লাহ আল শাফি।

এছাড়া নির্বাহী সদস্য (উপজেলাভিত্তিক) পদে যারা জয় পেয়েছেন তারা হলেন- ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান, মো. মঞ্জুর রহমান (মিন্টু), মো. জামেদুল ইসলাম আলমাজী মিলন, মো. আব্দুস সালাম ভূঁইয়া, মো. মানিক মিয়া, মো. আব্দুস সামাদ তাড়াশী, মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, মো. রেজাউল করিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

নির্বাচনে এসআর তালুকদার-সৈয়দ মনিরুজ্জামান পরিষদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর হায়দার-বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার পরিষদ থেকে ৯৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। এর বাইরেও স্বতন্ত্র পর্যায়ে ১৬ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিল।

Link copied!