• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৩ মুহররম ১৪৪৫

জিম্বাবুয়েকে জয়ের ‘রং-মসলা’ উপহার বাংলাদেশের


অঘোর মন্ডল
প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২২, ০২:০৯ পিএম
জিম্বাবুয়েকে জয়ের ‘রং-মসলা’ উপহার বাংলাদেশের

সাদা-সাদা, কালা-কালা রঙের ঔদ্ধত্যে বারবার অসম্মানিত আর অত্যাচারিত হয়েছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট! সাদা বনাম কালো অথবা কালো বনাম সাদা ভেতরে-বাইরে এই মর্মস্পর্শী লড়াইয়ের কী করুণ ছাপ বয়ে বেড়াচ্ছে দেশটির ক্রিকেট! এবং সেটা প্রায় দুই দশক ধরে। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার আগে যে দেশটা টানা নয়টা বিশ্বকাপ খেলেছে, তারা ২০১৯-এ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি! বিশ্বকাপ কেন, ক্রিকেট থেকেই প্রায় অস্তমিত হতে যাওয়া এক দেশের নাম জিম্বাবুয়ে! ’জয়’ শব্দটা ভুলতে বসা সেই জিম্বাবুয়ে কীভাবেই না ‘পরাজয়’কে তীব্র প্রত্যাঘাত করল ৫ আগস্ট বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে!

৩০৩ রান করেও বাংলাদেশ ম্যাচ জিততে পারল না হারারেতে! ১০ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতল জিম্বাবুয়ে। খাদের পাশ থেকে উঠে আসা একটা দল। তাদের এই জয়ের বিশাল এক ব্যাপ্তি আছে। বাংলাদেশের আত্মতৃপ্তি, বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস সবকিছুকে নিঃশেষ করে দিয়ে এ জয় যেন জিম্বাবুয়েন ক্রিকেটের নব উদয়। ম্যাচ শেষে তাদের নিশ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের ভাষা পড়তে পারলে সেটাই মনে হবে। সিরিজের ভাগ্যে কী হবে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের এই জয় সামাজিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রঙের লড়াইটা থামিয়ে দেওয়ার জন্য জিম্বাবুয়ের জন্য এই জয়টা জরুরি ছিল।

আর বাংলাদেশ? এই হারের শোকে দারুণ ক্লিষ্ট মনে হচ্ছে দলটাকে। অথচ টিম হিসেবে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই সবচেয়ে ধারাবাহিক ছিল। একের পর এক ম্যাচ জিততে পেরেছে। কিন্তু সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এখন আর নিরুদ্বিগ্ন থাকতে পারছেন কি তামিম এবং তার দল। হারের পর বাংলাদেশ অধিনায়কের চিন্তাক্লিষ্ট মনে আরও বড় দুশ্চিন্তা ভর করেছে। লিটন দাস সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন। সবচেয়ে ধারাবাহিক এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাটারকে হারিয়ে নিরুদ্বিগ্ন ঘুরে বেড়াতে পারছেন না তারা। টিম নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হচ্ছে।

অবশ্য ভাবনার বিস্তীর্ণ দিগন্তে নানা হাহাকার বাংলাদেশের। তিনশর বেশি রান করেও জিততে পারল না! টপ-মিডল অর্ডারের প্রথম চার ব্যাটারই হাফ সেঞ্চুরি করলেন। কিন্তু কেউ সেঞ্চুরি পেলেন না! ৩০৩ রান স্কোরবোর্ডে রেখে ম্যাচ জিততে না পারায় হাঁড়িকাঠে প্রাণ যাচ্ছে বোলারদের। সঙ্গে সমালোচনাবিদ্ধ হচ্ছেন ফিল্ডাররা। কী ফিল্ডিং করলেন তারা? স্কুলবালকদের মতো টপাটপ কিছু ক্যাচ ফেলেছেন! না; শুধু তা নয়। টি-টোয়োন্টির এই জমানায় ক্রিকেট ফিল্ডারদের কাছে দাবি করে দারুণ অ্যাথলিটিসিজম। সিঙ্গেল নেওয়ার ফাঁকফোকর আটকাতে হবে নিজস্ব ক্ষিপ্রতায়। সিঙ্গেলসকে ডাবলস করার সুযোগের দরোজায় তালা লাগাতে হবে। কিন্তু কোথায় কী! সিকান্দার রাজা আর ইনোসেন্ট কাইয়ারা বাংলাদেশ দলের বোলার-ফিল্ডারদের রীতিমতো পাড়ার ক্লাব স্তরে নামিয়ে ফেললেন! দুজনেই সেঞ্চুরি করলেন। তারা এমন ব্যাটিং করলেন বাংলাদেশের কোনো পরিকল্পনাই কাজে দিল না!

আসলে বাংলাদেশের কি কোনো পরিকল্পনা ছিল? তারা ধরেই নিয়েছিল স্কোরবোর্ডে ৩০৩ রান। জয়ের জন্য যথেষ্ট! আসলে বাংলাদেশ ভুলে গিয়েছিল ক্রিকেটে জ্যোতিষচর্চার কোনো জায়গা নেই। আগাম কিছু বলার সুযোগ নেই। ভাবার জায়গা নেই। ক্রিকেট জ্যোতিষচর্চার নয়, মনুষ্যের। তবে বাংলাদেশের বোলিং-ফিল্ডিংয়ের সৌজন্যে সিকান্দার রাজা-ইনোসেন্ট কাইয়াদেরও ব্যাট হাতে জিনিয়াস মনে হলো! ক্রিকেট খেলাটা এ জন্যই গ্রেট। এখানেই তার সৌন্দর্য। জীবনের মতো এখানেও আঁচ করা যায় না; কী ঘটতে যাচ্ছে! প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তামিম ইকবালের আট হাজার রান করার দিন, যেখানে বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটারের হাফ সেঞ্চুরি, স্কোরবোর্ডে তিনশর ওপরে রান; সেই দিনই বাংলাদেশ এমন ধাক্কা খাবে, কে ভেবেছিলেন! হয়তো শুধু ক্রিকেট ঈশ্বরই জানতেন।

যে যা-ই জানুক, বাংলাদেশ দল হারারেতে ফিল্ডিং-ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে! নির্ভরযোগ্য ফিল্ডার হিসেবে যারা পরিচতি, তারাও ক্যাচ ফেললেন! সবাই যেন অদ্ভুত জড়তায় আক্রান্ত হয়ে পড়লেন। কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন! ফিল্ডিং এমন সংক্রমণ একটা ক্যাচ ফেললে গোটা দলের কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়! গোটা বাংলাদেশের ফিল্ডিং দেখে মনে হবে সবাই শিক্ষানবিশ!

সিরিজের প্রথম ম্যাচের বাংলাদেশকে দেখে মনে হচ্ছে; এরা বিপক্ষে উদ্দীপ্ত করতে পারে। আর দেশের সমর্থকদের হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে!

Link copied!