ঢাকার মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাথাড়ি গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহত এবং দুই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ই-ব্লকের ওপেক্স পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইউসুফ আলী (৪৫) যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া গুলিতে দুজন আহত হলেন—নালাম সরদার (৪৫) ও মনির হোসেন (৩২)।
তাদের মধ্যে কাঁচামাল ব্যবসায়ী নালামের মাথার পেছনে গুলি লেগেছে। আর ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী মনিরের গুলি লেগেছে পায়ে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাদের তিনজনকেই ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতের রাজনৈতিক সহকর্মী মামুন হাসপাতালে বলেন, “শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আমি, ইউসুফ ভাইসহ আরো দুজন ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এসময় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন যুবক আমাদের আশপাশ দিয়ে ঘুরছিল। তাদের গতিবিধি দেখে আমাদের সন্দেহ হয়।
“একপর্যায়ে ইউসুফ ভাই তাদের ডেকে বলে, ‘তোমাদের বাসা কোথায়? তোমরা আমাদেরকে ঘিরে এভাবে ঘুরছ কেন?’ পরবর্তীতে তাদের একজন বলে, ‘আমাদের বাড়ি মিরপুর-১০-এ’। এরপর তারা চলে যেতে থাকলে ইউসুফ ভাই একজনের হাত ধরে বলে, ‘দাঁড়াও’। তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
“পরে সেই যুবক ইউসুফ ভাইকে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দূরে চলে যায় এবং পিস্তল বের করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ইউসুফ ভাইয়ের বুকে গুলি লাগলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।”
মামুন বলেন, “স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে এখানকার চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
“এই ঘটনায় আরো দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়; তাদের একজনের মাথায় এবং একজনের পায় গুলি লাগে। তারা এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন।”
এ ঘটনার পরে স্থানীয়রা আক্রমণকারীদের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
নিহত ইউসুফ আলী বরিশালের উজিরপুর থানার সাকরাল গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে। তিনি কাফরুলে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।
কাফরুল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলছেন, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইউসুফ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

































