জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন নিউ ইয়র্কে। তার এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরসঙ্গী দলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি।
এই সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকের সুযোগ আছে কি না, তা সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে হুমায়ুন কবির বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান। তাই আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিপক্ষীয় সফরে এমন বৈঠকের সুযোগ থাকার কথা জানিয়ে তিনি বললেন, ‘আপনারা জানেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চিঠি দিছেন প্রধানমন্ত্রীকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করছেন বৈঠকের। তবে সেটা হবে বাইল্যাটারাল।
‘ওইটা পরবর্তীতে বাইল্যাটারাল ভিজিটের মাধ্যমে উপযুক্ত সময়ে, দুই পক্ষের সুবিধামতো আমরা বিবেচনা করব।’
‘এখানে ডোমেস্টিক রাজনীতি নিয়ে তেমন আমরা আলাপ-আলোচনা করব না। এখানে মূল কাজ হবে দেশের ভাবমূর্তিকে তুলে ধরা, তার (তারেক রহমান) নেতৃত্বে আগামী দিনে বাংলাদেশ কীভাবে— আই মিন আফটার দ্য ফলোয়িং ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন— কী কী পলিসি নিয়ে এগোচ্ছে, কী ভিশন আগামী নতুন বাংলাদেশের জন্য তৈরি হচ্ছে এবং উনি এটাই মানে হি উইল শেয়ার উইথ দ্য ওয়ার্ল্ড কমিউনিটি হিয়ার।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। যাতায়াতের দুই দিন বাদে মাঝখানে মাত্র চার কর্মদিবস তিনি নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দল নিয়ে তিনি বললেন, ‘অনেকেই জানতে চেয়েছেন, এবার আমাদের বহরের সংখ্যাটা কেমন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সনাতনী ধারাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত সফরে ছোট একটা বহর নিয়ে এসেছেন আনুষ্ঠানিকভাবে। এখানে ৩৩ জন রয়েছেন। এর পাশাপাশি রয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় বা অত্যাবশ্যকীয় মিডিয়া, সিকিউরিটি এবং পার্সোনাল কিছু স্টাফ।’
আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। জাতিসংঘে এটাই হবে তার প্রথম ভাষণ। এর আগে তার বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন।
এবার তারেক রহমান যখন ভাষণ দেবেন, তখন সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের আসনে থাকছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
মাহ্দী আমিন জানালেন, তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউ ইয়র্কে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, যা একটি ইতিহাসের অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন, যেখানে সব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে একটি ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে’ যোগ দেবেন তিনি।
বাসস জানিয়েছে, এর ফাঁকে কিছু দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে তারেক রহমান অংশ নেবেন।

































