ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে: সড়কমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে: সড়কমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পাবলিক পরিবহনে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগে যে রেশনিং পদ্ধতিটা ছিল, সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে। সরকার পর্যায়ক্রমে এই তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে তৎপর আছে। এটা শুধু জাতীয় সমস্যা নয়, আন্তর্জাতিক সংকট। এ সংকট শুধু আমাদের না, সব জায়গায় আছে। জ্বালানি তেলে আমাদের থেকেও বিপজ্জনক জায়গায় আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপায় লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের ৭০ কিলোমিটার এলাকায় রাবনাবাদ নদীর ওপর ‘রাবনাবাদ সেতু’ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শেখ রবিউল আলম।

সরকারের কর্মতৎপরতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাত্র ২৫ দিনের একটি সরকার সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছে। যার যে দায়িত্ব আছে, সেটা পালন করার জন্য চেষ্টা করছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে, জনগণের প্রত্যাশা ও দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে গোমা সেতু উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এবার ঈদযাত্রায় মানুষ আনন্দিত। মাত্র ২/৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। তাদের যাত্রাটা স্বস্তিদায়ক করা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি, তাতে আমরা নিশ্চিত যে যাত্রীরা স্বস্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে, আরামদায়ক যাত্রার মাধ্যমে স্বজনদের কাছে যাবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দুই লেনের। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত যে সড়ক, এটায় চলাচল করা গেলেও আরও প্রশস্ত করা দরকার। এটা সরকার উপলব্ধি করে, আমরাও উপলব্ধি করছি। আর এবার এসে সরাসরি দেখে গেলাম। দ্রুত কীভাবে কাজটা শুরু করা যায়, সেই পরিকল্পনা সরকারের আছে। দ্রুত আপনারা সুখবর পাবেন। বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, এই সরকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া একটি জাতি সমৃদ্ধ হতে পারে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমরা নিয়িমিত সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিং করে সচল রাখি। এর মধ্যে ১২০০ কিলোমিটার নৌপথ খনন চলছে। সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার নৌপথ নিয়ে আমরা আগামীতে পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশাল ও ভোলা নৌপথে অবাধে নৌযান চলাচল করতে পারবে, সেই প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করার সুযোগ নেই।

শেখ রবিউল আলম বলেন, গোমা সেতু এই এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিশ্বাস, এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য এই সেতু একটা যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গোমা সেতু চালু হওয়ায় বরিশালের বাকেরগঞ্জের সঙ্গে পটুয়াখালীর দুমকির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। দুই জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি লাঘব হয়েছে এই সেতুর মাধ্যমে। যাতায়াতের সময়ও কমে আসবে প্রায় দুই ঘণ্টা।

Link copied!