মিডিয়ায় বডি শেমিং, প্রতিবাদে ৩৪ নারীবাদীর বিবৃতি


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২১, ০৮:৪২ পিএম
মিডিয়ায় বডি শেমিং, প্রতিবাদে ৩৪ নারীবাদীর বিবৃতি

সম্প্রতি লাইফস্টাইল বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ক্যানভাসে’ বডি শেমিং করার পাশাপাশি নারীর প্রতি চরম অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিহিত করে বিবৃতি দিয়েছেন ৩১ নারীবাদী অধিকারকর্মী। এতে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানান। 

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়।

১৭ শতকের কবি ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরের লেখা কবিতা ‘স্ত্রীজাতি কথন’কে সামনে রেখে ফটোশ্যুট ও ফিচার প্রকাশ করেছে ক্যানভাস। ম্যাগাজিনটি কবিতাটিতে বর্ণিত পদ্মিনী, হস্তিনী, চিত্রিণী ও শঙ্খিনী নারী কেমন হবে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে লেখা ও ছবিতে। 

বিবৃতি বলা হয়েছে, “মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন কন্টেন্ট সরাসরি নারীর প্রতি চরম অপমান, অবমাননাকর ও অরুচিশীল। ক্যানভাস কর্তৃপক্ষকে এই ফিচার প্রকাশের দায়ে ক্ষমা চাওয়ার ও ম্যাগাজিনের অনলাইন সংস্করণ থেকে লেখাটি তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেইসঙ্গে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সেক্সিস্ট, বডি শেমিংমূলক কন্টেন্ট প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক থাকারও অনুরোধ জানানো হয়।”

ক্যানভাসের পাশাপাশি দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি নারীর অগ্রযাত্রা, লিঙ্গ সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় আরও প্রগতিশীল ও সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানান বিবৃতিদাতা ৩১ নারীবাদী অ্যাক্টিভিস্ট। এ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি হ্যাশট্যাগও চালু করেছেন তারা।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, “প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও লিঙ্গ সমতা ও বৈষম্যহীনতার লক্ষ্যে যে বৈশ্বিক যাত্রা তা থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে এই বাংলাদেশ। দেশে নারীর প্রতি অবমাননা, নির্যাতন ও বঞ্চনা অপমানের যে করুণ চিত্র আমরা দেখতে পাই, তাতে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার কিংবা স্বপ্ন দেখার সুযোগ নেই। তবুও, এই নিদারুণ প্রতিকূলতার ভেতরেও, নারী পুরুষ ও সব লিঙ্গের মানুষের জন্য একটি সমতার পৃথিবী গড়তে এবং বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছেন এদেশের নারীবাদীরা।”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এদেশে নারীবাদ আন্দোলন ধীরে এগুলেও বর্তমানে তা জোরালো হয়ে উঠছে। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নারীর প্রতি সকল অবিচার, অন্যায়, বৈষম্য ও অবমাননা দূর করা। আমাদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন, গোঁড়ামিপূর্ণ সমাজে এই ধরনের মানবিক বোধ প্রতিষ্ঠা করা খুব কঠিন। তবু সেই কাজটি যে যার অবস্থান থেকে করে যাচ্ছেন।”
 

বিবৃতি দিয়েছেন:

১। সুপ্রীতি ধর

২।শারমিন শামস্

৩।কাবেরী গায়েন

৪।স্নিগ্ধা রেজওয়ানা

৫।ফারহানা হাফিজ

৬।কাশফিয়া ফিরোজ

৭।আফসানা কিশোয়ার লোচন

৮।তাসলিমা মিজি

৯।নাহিদ সুলতানা

১০।দিলশানা পারুল

১১।গীতি আরা নাসরিন

১২।প্রমা ইসরাত

১৩।লাকী আক্তার

১৪।অপরাজিতা সঙ্গীতা

১৫।মাহা মির্জা

১৬।ইশরাত জাহান ঊর্মি

১৭।নাহিদ আক্তার

১৮।কানিজ আকলিমা সুলতানা

১৯।ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী

২০।শাশ্বতী বিপ্লব

২১।জান্নাতুন নাঈম প্রীতি

২২।নাহিদা আক্তার

২৩।অরণি আঞ্জুম

২৪।ফাহমিদা হানিফ ইলা

২৫।মেহেরুন নূর রহমান

২৬।ক্যামেলিয়া আলম

২৭।হাবিবা রহমান

২৮।মিতি সানজানা

২৯।বীথি সপ্তর্ষী

৩০।শাহাজাদী বেগম

৩১।মারজিয়া প্রভা

৩২।ফেরদৌস আরা রুমী

৩৩।জোবাইদা নাসরীন

৩৪।রাওয়ান সায়েমা

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!