স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে স্মার্ট কর্মীবাহিনী ও সুশৃঙ্খল আওয়ামী লীগ চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আরও বলেন, “মুখে বলি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, নেতা হয়ে মঞ্চে উঠলে আদর্শের কথা মনে থাকে না। এখন তো নেতাদের ভিড়ে আসল কর্মী চেনা দায়। স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট কর্মীবাহিনী দরকার। বাংলাদেশের জন্য সুশৃঙ্খল আওয়ামী লীগ চাই।”
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৩তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে হবে। যারা চাঁদাবাজি ও মাস্তানি-সন্ত্রাসী করবে তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়, তাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চলবে। মুখে আওয়ামী লীগের আদর্শ লালন করবেন অন্তরে সে আদর্শ লালন করবেন না তেমন নেতার দরকার নেই।”
বিএনপি বলছে সুনামি এনে সরকার হটাবে, কিন্তু মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনে বিএনপি এখন উল্টো অসুস্থ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাদের বলেন, “বিএনপির হতাশা থেকে অসুস্থতা শুরু হয়েছে। ৫৪ দলের ৫৪ মতে বিভক্ত। আসল নেতাগুলো হাসপাতালে আর পাতিনেতারা বলছে, সুনামি নামিয়ে সরকার হটাবে।”
আন্দোলনে সাগরের উত্তালের কথা বলে নদীর ঢেউও তুলতে পারলো না উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, “হতাশায় বিএনপির বাজার ভেঙে যাচ্ছে, বিএনপির জোটের বাজার ভেঙে যাচ্ছে, এ হতাশার জোট দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার হটানো দুরাশার বাণী।”
সরকারের পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে আসুন। সরকার নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাবে না নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশনার- যোগ করেন কাদের।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোথাও নেই, তত্ত্বাবধায়কের কথা ভুলে যান, আইন দ্বারা গঠিত নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না।”
বিএনপি নির্বাচনে আসবেই, সব হারিয়ে আসবে উল্লেখ করেন তিনি আরও বলেন, “বিএনপির আন্দোলনের টাকা আসে কোথা থেকে সেটা আমরা জানি, যারা শেখ হাসিনা সরকারকে হটানো জন্য টাকা দিচ্ছে তাদের খবর আছে।”
নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাবে কে? ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার শক্তি বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের নেই।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি রাতের অন্ধকারে নিমজ্জিত। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিড়ে শিগগিরই চালু হচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল। এসব মেগা প্রোজেক্টের ভিড়ে বিএনপির অন্তরে জ্বালা। এ বছরের সেপ্টেম্বরের আগে গাজীপুর থেকে র্যাপিড বাস চালু করা হবে। এ বছরেই উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল বাস্তবায়ন হবে।”
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ।



































