স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুততম সময়ে দল গোছানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও দায়িত্বশীলদের দলের দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপিপ্রধান।
দলীয় কোন্দল নিরসনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করতে মূল দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে পুনর্গঠনেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দ্রুত দলের পুনর্গঠন কার্যক্রমে ইতি টানতে পরামর্শ দেন তারেক রহমান। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে দল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিলুপ্তি এবং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিলুপ্তি ও নতুন কমিটি ঘোষণা শুরু করেছে। এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গতকাল রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলীয় প্রধান।
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচন, কিন্তু দলের প্রার্থী যেহেতু থাকছেন সে বিষয়ে জেলা নেতারা পরামর্শ চান। জবাবে বিএনপিপ্রধান বলেছেন, দল ও দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে ইতি টানতে হবে; তবে তড়িঘড়ি করে আবার ভিন্ন দল কিংবা বিতর্কিতদের যেন অন্তর্ভুক্ত করা না হয় সেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশনাও দেন দলীয় প্রধান।
পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী কিভাবে নির্ধারণ করা যায় সেই বিষয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।’
স্থানীয় নির্বাচনে ‘একক’ প্রার্থী নির্ধারণে নির্দেশনা বিএনপির
তিনি বলেন, ‘সংগঠন পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যেখানে কমিটি নেই সেখানে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠনের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার নির্দেশনাও আছে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনাগুলো নিয়েই আজ (শনিবার) পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার সব উপজেলা ও থানা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তিনি বৈঠকে বক্তব্য দিয়েছেন এবং আমাদের কথাও শুনেছেন। সংগঠন কোথায়, কী অবস্থায় আছে, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এসব বিষয় দলীয় প্রধান আমাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন। সামনে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের সামগ্রিক করণীয় কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হবে। এবার কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে প্রতীক না থাকলেও প্রত্যেক প্রার্থীর প্রতি কোনো না কোনো দলের সমর্থন থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কোনো প্রতীকে হবে না এবং দলীয় ভিত্তিতেও হবে না। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে পুরোপুরি নির্দলীয় ও দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে চাই। তবে যাঁরা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাঁদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং দল যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে সেই বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।’
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই দল গোছানোর কার্যক্রম শেষ করতে চাইছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও। তাঁরা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে হলে নতুনভাবে দল গোছানোর বিকল্প নেই। কারণ তৃণমূলে বিএনপিকে পুনর্গঠন ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ‘কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র’ পর্যন্ত নতুন গতি আসবে এবং ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়াও শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে।
জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘পুনর্গঠন বা সংযোজন-বিয়োজন দলের অভ্যন্তরীণ রুটিন ওয়ার্ক। নতুন কমিটি গঠন, কমিটি বাতিল বা পরিবর্তন আনা দলের নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অংশ। যেসব জায়গায় কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে সেখানে নতুন কমিটি আসবে। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।’




































