ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলত আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলত বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। কিন্তু দেশের জনগণ এগুলো খায় না।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে দলীয় লোক বসিয়ে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না।
শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালনার দাবি জানান। একই মঞ্চে মাওলানা জব্বারকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা এ কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বার। পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলত আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলত বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। কিন্তু দেশের জনগণ এগুলো খায় না।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আপনারা তরুণ সমাজের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না। যারা আজ শহীদ পরিবার ও পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা ও উপহাস করে কথা বলেন, তারা নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণা করছেন।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় লোক বসিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে। একদলীয় শাসন জনগণ মেনে নেবে না। তরুণ সমাজের মুখের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে দেশ শাসন করলে জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে যাবে। শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধেক বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি।
বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার একটি বড় বাজেট দিয়েছে। বাস্তবায়নও করবে সরকার। আওয়ামী লীগ বড় বাজেট দিয়ে ১৭ বছরে ২৯ লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। আপনারাও তা করবেন না। জনগণ মেনে নেবে না। তিনি আরো বলেন, দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে একটি গোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের নয়।
ত্বকী হত্যা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আপনারা ত্বকী হত্যার বিচার পেয়েছেন? শুধু রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ এখানে উপহার দেয়া হয়েছে। এরপর কেউ কেউ বলতেন, খেলা হবে। এখন আর কেউ বলে না, খেলা হবে। এখন এখানে চলছে বোবা কান্না। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তাড়া করছে। তারা ভয়ে কথা বলতে চান না। কিন্তু চোখের ভাষা বোঝা যায়। চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ীদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। বিএনপির নেতারা বলেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন, আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজ লেলিয়ে রেখেছেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। মদের বিপণন ও উৎপাদনকারীর কেবল হাতবদল হয়েছে। জনগণ সময়মতো জবাব দেবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, নায়েবে আমির আবদুল কাইয়ুম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির মোমিনুল হক সরকার, শহীদ মো. আবিলের পিতা আবুল কালাম এবং ঢাকা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

































