জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী ও সমর্থকদের ওপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলার অভিযোগ তুলে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা মায়ের গায়ে হাত তুলেছে ও অপমান করেছে, তারা যেন ক্ষমা চায়। আল্লাহ ক্ষমাশীল—তিনি ক্ষমা করে দেবেন। অন্যথায় জামায়াতের নেতা–কর্মীরা বসে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মণিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতের মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। কেউ যদি হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, ইনশা আল্লাহ আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না।”
জামায়াতের আমির আরও বলেন, “আমরা মায়ের সন্তানেরা গর্জে উঠব। যেকোনো মূল্যে আমাদের মায়েদের মর্যাদা রক্ষা করব। এখানে দুটি পথ খোলা—একটি হলো নিজেকে পরিবর্তন করে ভালো হয়ে যাওয়া ও মাকে সম্মান করা; আর না হলে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য সব দায় নিতে প্রস্তুত থাকা।”
সমাজব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত মাতৃতান্ত্রিক কিংবা পিতৃতান্ত্রিক কোনো ব্যবস্থাই চায় না; তারা চায় একটি মানবিক সমাজ। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন বা বৈষম্য তারা সমর্থন করে না।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট। তাঁর ভাষায়, ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশ জিতে যাওয়া, আজাদি এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের ফিরে না আসা। ইনশা আল্লাহ প্রথম ভোটটি হবে ‘হ্যাঁ’।
দ্বিতীয় ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট। অতীত দূরে না গিয়েও ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে কার ভূমিকা কেমন ছিল—তা জনগণের সামনে স্পষ্ট। যাদের সততা ও নীতির ওপর আস্থা রাখা যায়, ১২ তারিখের ভোট ইনশা আল্লাহ তাদের পক্ষেই যাবে।

































