দেশ গড়তে হলে সবাইকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ১২:২২ এএম
দেশ গড়তে হলে সবাইকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশটি আমাদের সবার। এই দেশ গড়তে হলে সবাইকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে ইনশাআল্লাহ এই সরকার আপনাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে সুধী সমাবেশে ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরকে কেন জানি সবসময় মনে হলেই নানি বাড়ির কথা মনে হয়। এই দিনাজপুর শহরের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি আছে— বালুবাড়িতে নানিবাড়ি ছিল, তার আগে ঘাসিপাড়ায় ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকার প্রতি আমার একটি আলাদা টান রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দিনাজপুরে এসে আমি অনেকগুলো কথা বলেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমরা যখন সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছি, এক মাসের মতো সময়ের মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি মানুষের কাছে দেওয়া ওয়াদাগুলোর কাজ শুরু করতে। আজকে দিনাজপুর জেলার কাহরল এলাকা থেকে আমরা খাল খনন কর্মসূচির কাজ শুরু করেছি।

খাল খননের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো বছর ধরে আমাদের নদী-নালা-খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না, আবার বর্ষায় উজান থেকে হঠাৎ পানি এলে তা ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষতি করে। আগামী পাঁচ বছরে আমরা প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে বর্ষার পানি ধরে রাখা যায় এবং কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।

তারেক রহমান বলেন, আগে ১০০-১৫০ ফুট গেলেই নলকূপে পানি পাওয়া যেত, এখন অনেক জায়গায় ৬০০-৭০০ ফুট নিচে যেতে হয়। ভূগর্ভস্থ পানি ক্রমেই কমে যাচ্ছে এবং আর্সেনিক সমস্যাও বাড়ছে। খাল ও নদী খননের মাধ্যমে যদি আমরা পানি ধরে রাখতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ পানির রিচার্জ হবে এবং আর্সেনিক সমস্যাও কমবে।

নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। আমরা পরিকল্পনা করেছি এই পরিবারগুলোর নারী প্রধানের কাছে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে এবং দেশের ১৫টি এলাকায় ৩৭ হাজার মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় গুরুদের সম্মানীর ব্যবস্থার কথা বলেছিলাম। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুরা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন। আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকদিন আগে এই সম্মানী কার্যক্রমও আমরা শুরু করেছি। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা। তাই এখানে কৃষিভিত্তিক মিল-কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি। ঈদের পর শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বসে এই এলাকায় কৃষি-সম্পর্কিত শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিল। বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সুধীজন ও এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
 

Link copied!