• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৩ মুহররম ১৪৪৫

কোরবানি ঈদের আগে যত প্রস্তুতি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
কোরবানি ঈদের আগে যত প্রস্তুতি
কোরবানি ঈদের আগে যত প্রস্তুতি। প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি এবং অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালন করবেন এই উৎসব। ঈদ মানেই ব্যাস্ততা। ঈদের নামাজের পর পর পশু জবাই, মাংস বণ্টন, মজার সব রান্না করা, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং নিজেকে সাজানো কতশত কাজ। এতোকিছু সামলাতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলাটা অস্বাভাবিক নয়। কিছু প্রস্তুতি আগে নিয়ে রাখলে সহজেই ঝামেলাগুলো থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

ঈদের পোশাক প্রস্তুতি 
ঈদের দিন সকালে গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন, উত্তম জামাকাপড় পরা সুন্নত। তবে কোরবানি ঈদে নতুন পোশাকের আয়োজন রোজার ঈদের মতো হয় না। তারপরও নিজের এবং পরিবারের অন্যদের জন্য একটি-দুটি নতুন পোশাক রাখতে চান অনেকে। যেহেতু কোরবানির ঈদে কাজের ব্যস্ততা বেশি তাই সেসব মাথায় রেখে আরামদায়ক সুতির পোশাক নিতে পারেন। ঈদের দিন নতুন পোশাকে শিশুদের আনন্দই এনে দেয় ঈদের খুশিতে পূর্ণতা। শিশুদের জন্য বর্ষা ঋতুকে মাথায় রেখে ফ্রক, লেহেঙ্গা, শারারা সেটসহ ছেলেশিশুদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া নিতে পারেন। ছেলেদের জন্য আরামদায়ক পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট রাখতে পারেন। তবে এই ঈদে পরিবারের সবাই একইরকম পোশাকও বাছাই করতে পারেন। তাই ঈদের আগেই সবার পোশাক কিনে এনে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিন যেন ঈদের দিন সকালেই হাতের কাছে পেয়ে যান।

অন্দরসজ্জা
পশু জবাই আর মাংস বণ্টন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ঈদ উৎসবে কিন্তু ঘরকে সুন্দর করে গোছাতে হবে। কারণ, অন্দরকে পরিপাটি করে সাজানোও উৎসবের অংশ। তাছাড়া ঈদের দিন বাড়িতে মেহমানের আনাগোনা তো থাকবেই। আর সে জন্য ঘরটাও একটু গোছানো থাকা চাই। ঘরের দেয়াল, কর্নার এবং আসবাবপত্রের ধুলা ঝাড়া মোছা করে নিন। অপরিষ্কার ঘর যত যত্ন করেই সাজানো হোক ভালো দেখাবে না।  ঈদে উৎসবে ভালো চাদরটি বিছানায় বিছিয়ে দিয়ে ভালো পর্দাগুলো টাঙিয়ে দিন দরজা-জানালায়। যেন তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়। ফুলদানিতে কিছু তাজা ফুল সাজিয়ে নিতে পারেন। দেখলেই মনটা সতেজ লাগবে।

রান্নাঘরের প্রস্তুতি  
কোরবানি ঈদে রান্নাঘরের ওপর থাকে ভীষণ চাপ। পশু জবাইয়ের পর বণ্টন ও সংরক্ষণের জন্য মাংস কাটা, প্যাকেট করাসহ রান্নার আয়োজন- সব কাজ প্রায় পুরোটাই হয় রান্নাঘরে। এ কারণে রান্নাঘর আগে থেকেই গুছিয়ে রাখতে হবে যেন ঈদের দিন কাজ করার সময় কোনো ঝক্কি পোহাতে না হয়। সবকিছু এমনভাবে গুছিয়ে রাখতে হবে, যেন কাজের সময় প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম হাতের নাগালেই পাওয়া যায়। মাংস সংরক্ষণের জন্য পলিব্যাগ, জিপলক ব্যাগ আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখুন। রাইস কুকার, প্রেশার কুকারসহ রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় হাঁড়িপাতিলগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিয়ে হাতের নাগালে রাখুন।

পশু কোরবানির প্রস্তুতি
কোরবানি ঈদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পশু কোরবানি করা। তাই কোরবানির জন্য প্রস্তুতি নিন। মাংস কাটার জন্য যেসব সরঞ্জাম ব্যবহৃত হবে যেমন- দা, বঁটি, ছুরি এসব পরিষ্কার করে রাখুন আগেই। এগুলোর ধার পরীক্ষা করে প্রয়োজনে নতুন করে ধার দিয়ে নিতে পারেন। তারপার এমন জায়গায় রাখুন যাতে চোখের সামনে থাকে কিন্তু শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে। ফ্রিজের দিকে খেয়াল করুন সবার আগে। ফ্রিজ ঈদের ১২ ঘন্টা আগে পরিষ্কার করে ভালোভাবে মুছে রেখে দিন যাতে মাংস ভালো ভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন।

মসলাপাতির প্রস্তুতি
কোরবানির ঈদে মাংসের বিভিন্ন পদ রান্না হয়ে থাকে। তাই আগে থেকেই মাংসে ব্যবহার করার জন্য মসলাগুলো তৈরি রাখলে ঈদের দিন রান্নার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। তাই বেশি করে পেঁয়াজ কেটে বায়ুরোধী বক্সে করে ফ্রিজে রেখে দিন। আদা-রসুন আগের দিনই বেশি করে বেটে বা ব্লেন্ড করে ফ্রিজে রেখে দিন। যেসব মসলার গুড়া ব্যবহার করবেন সেগুলো পর্যাপ্ত না থাকলে এখনই সংগ্রহ করে রাখুন।

রান্নাবান্না 
ঈদের দিন সকালে নিজেদের খাওয়ার জন্য বা অথিতি আপ্যায়নের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা আগেই করে ফেলতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন আগের দিন রাতেই বানিয়ে রেখে দিন। যেসব খাবার ঈদের দিনই বানাবেন তার প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।

এছাড়া ঈদের দিন পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহারের সরঞ্জাম যেমন- চাটাই, রেক্সিন, ছুরি, দা, বঁটি প্রস্তুত রাখুন আগেই। ঈদের দিনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে রাখুন। 

Link copied!