ঈদুল আজহার উৎসব মানেই পশু কোরবানি। ঈদের সকালে নামাজ শেষেই শুরু হয় পশু কোরবানি। সারাদিন মাংস কাটা, বর্জ্য পরিষ্কার, মাংস ভাগ করা, বিলিয়ে দেওয়া নিয়ে থাকে নানা ব্যস্ততা। এরমধ্যে মাংস সংরক্ষণের কাজটিও ওই দিনই সেরে নিতে হয়। শুধু পশুর মাংস নয়, এর সঙ্গে পায়া, ভুঁড়ি পরিষ্কার করা ও সংরক্ষণ করা নিয়েও থাকে ঝামেলা। বিশেষ করে গরুর পা ও ভুরি পরিষ্কার করে কেটে ফ্রিজে রাখতে হয়।
অনেকে গরুর ভুঁড়ি খেতে পছন্দ করেন। খেতে সুস্বাদু হলেও ভুঁড়ি পরিষ্কারে বেশ খানিকটা ঝামেলা পোহাতে হয়। সঠিকভাবে ধোয়া, পরিষ্কার করা এবং কেটে সংরক্ষণ করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ভুঁড়ির গায়ে প্রচুর পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। কাজেই খাওয়ার আগে খুবই ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হয়। অনেকে ঝামেলার কারণে গরুর ভুঁড়ি অন্যদের দিয়েও দিচ্ছেন কিংবা ফেলে দিচ্ছেন। এবার গরুর ভুঁড়ি ফেলে না দিয়ে নিজেই সহজভাবে পরিষ্কারের চেষ্টা করুন।
যারা নতুন রাধুনি রয়েছেন কিংবা ঝামেলার কারণে ভুঁড়ি খেতে চান না তাদের জন্য় এটি পরিষ্কার ও সংরক্ষণের সহজ উপায় জানাব এই আয়োজনে।
গরুর ভুঁড়ি পরিষ্কারে যা যা লাগবে
- চুন
- হলুদ গুঁড়া
- চামচ বা ধারালো ছুরি
- বড় বালতি বা গামলা
- বড় হাড়ি
গরুর ভুঁড়ি যেভাবে পরিষ্কার করবেন
গরুর ভুঁড়ি পরিষ্কারের জন্য় প্রথমেই বটি বা ছুরি দিয়ে ভাগ করে নিন। দুই ভাগ করে ভেতরের সব ময়লা ধুয়ে নিন। এরপর গরম পানি দিয়ে ভুঁড়িটা ধুয়ে নিন। এবার গরুর ভুঁড়িকে বড় বড় করে টুকরা করে নিন।
অন্যদিকে একটি বালতি বা বোল ভর্তি পানি নিন। পানিতে চুন মিশিয়ে নিন। দুই থেকে তিন চামচ চুন মেশালেই হবে। এবার চুন হাত দিয়ে পানির সঙ্গে ভালোভাবে গুলিয়ে নিন। অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে অবশ্যই হাতে গ্লোবস পরে নেবেন।
চুন মেশানো হলে ভুঁড়ির টুকরোগুলো সেই পানিতে ঢুবিয়ে দিন। কমপক্ষে দুই ঘণ্টা ঢুবিয়ে রাখবেন। খেয়াল রাখবেন, ভুঁড়িগুলো যেন ঢুবেই থাকে। ভেসে না থাকে।

দুই ঘণ্টা পর একটি ভুঁড়ির টুকরো হাতে নিয়ে আঙুল দিয়ে কঁচলিয়ে দেখুন কালো অংশ অনায়াসে উঠে যাচ্ছে। এবার প্রত্যেকটি ভুঁড়ি চুন মিশ্রিত পানি থেকে তুলে ছুরি বা চামচ দিয়ে ভালোভাবে চেঁছে নিন। খুব সহজেই ভুঁড়ি থেকে কালো অংশটুকু উঠে যাবে এবং সাদা হয়ে যাবে। যেসব ভুঁড়ি থেকে ময়লা উঠবে না সেগুলো আরও কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারেন চুনের পানিতে। এরপর আবারও চেঁছে নিন। এভাবে পুরো ভুঁড়ির ময়লা পরিষ্কার করে নিন।
এবার চুলায় একটি বড় পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিন। সেই পানিতে এক চামচ হলুদ গুড়া দিন। সেখানে ভুঁড়ির টুকরোগুলো ৩-৪ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। বেশিক্ষণ সেদ্ধ করা যাবে না। দেখবেন ভুঁড়ির দুর্গন্ধ কেটে গেছে।
সেদ্ধ করা ভুঁড়ির টুকরোগুলো গরম থাকতে থাকতেই আবারও ছুরি বা চামচ দিয়ে বাকি ময়লা চেঁছে নিন। এরপর ভুঁড়ির পেছনে লেগে থাকা চর্বি আর পর্দাগুলো কেটে নিন। গরম অবস্থায় করলে সহজেই কাটা যাবে।
এবার ভুঁড়িগুলোকে ঠান্ডা করে নিন। পছন্দমতো ছোট ছোট টুকরো করে নিন। ব্যস হয়ে যাবে ভুঁড়ি পরিষ্কার।
গরুর ভুঁড়ি যেভাবে সংরক্ষণ করবেন
গরুর ভুঁড়ি পরিষ্কারের পরই ছোট ছোট করে কেটে নিন। কাটা টুকরোগুলো পরিষ্কার পলিব্যাগে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারবেন। ডিপ ফ্রিজে এই ভুঁড়ি ৫ পর্যন্ত ভালো থাকবে।





















