অন্তর্মুখীদের কেন নতুন সঙ্গ অপছন্দ?


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২১, ০৩:৪২ পিএম
অন্তর্মুখীদের কেন নতুন সঙ্গ অপছন্দ?

অনেকেই আছেন যারা নিজের মধ্যেই থাকতে বেশি পছন্দ করেন। একা সময় কাটাতে ভালোবাসেন। একা ঘুরে বেড়ান। যখন যা ইচ্ছে হয় তাই করেন, কিন্তু সবটা একাই করছেন। কারো সঙ্গ তাদের পছন্দ নয়। অনেকের মাঝে থেকেও অন্তর্মুখীরা অন্য মনস্ক হয়ে নিজ রাজত্বে ঘুরে বেড়ান।

অন্তর্মুখীরা নিজের পরিধির বাইরে যাওয়ার ভরসা পান না। কোনও ভাবে সেই পরিধির বাইরে বেরুতে হলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উদ্বেগগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এটা কোনো অসুস্থতা নয়। বরং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অংশ মাত্র। পৃথিবীতে এমন বহু মানুষই রয়েছেন যারা নিজেদের অন্তর্মুখী করে রাখতেই ভালোবাসেন। সহজে নিজের সব কথা সবার সামনে বলতে পারেন না তারা।

অন্তর্মুখী মানুষেরা কেন নতুন সঙ্গ বা নতুন কাউকে সহজে গ্রহণ করতে পারেন না, এর পেছনে কিছু কারণ জানান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ছোট থেকে একা বেড়ে উঠা মানুষেরা সাধারণত অন্তর্মুখী হোন। তাছাড়া বড়দের মাঝে অবহেলিত শিশুরাও বড় হলে অন্তর্মুখী হয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অন্তর্মুখী মানুষেরা বাকিদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন না। তাদের নিজেকে মেলে ধরার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়, একটা ভরসার জায়গার প্রয়োজন হয়। তাই তারা নতুনদের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে না।

তবে ভরসার জায়গাটা কারও সঙ্গে গড়ে উঠলে অনায়াসে তারা নিজেকে মেলে ধরে। মুহূর্তগুলো উপভোগ করে। যা তার কাছের মানুষগুলোই বুঝতে পারে।

অন্তর্মুখীরা সব সময় একটু খুঁত খুঁতে হয়। তারা সবকিছুই নিখুঁতভাবে করতে পছন্দ করে। অন্যের ক্ষেত্রেও তাই আশা রাখে। নতুন কারো বিষয়ে কিছু অপছন্দ হলে তারা শুরুতেই নিজেকে গুটিয়ে নেয়। অপছন্দের মানুষের সঙ্গে বাধ্য হয়ে মিশতে হলেও মানসিক অস্বস্তি অনুভব করে।

নতুনদের সঙ্গে পরিচয়ে জোর করে কথোপকথন এগিয়ে নিতে হয়। যা অন্তর্মুখী মানুষের মোটেও পছন্দ নয়। অপ্রয়োজনীয় কথা বলাই তার জন্য শাস্তি স্বরূপ মনে হয়। তারা চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ করেন।

মানুষকে তারা সাজপোশাকে বিচার করেন বেশি। নিজেরা গুছানো হোন, তাই অন্যের ক্ষেত্রেও তেমনটাই চিন্তা করেন। সাজ পোশাকে পরিপাটি  না হলে তারা একটু দূরেই থাকতে পছন্দ করেন।

চিন্তা ভাবনার বোঝাপড়াটাও অন্তর্মুখীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারো সঙ্গে কথায় মিলছে না বা অন্যের ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা বুঝতে পারলে অন্তর্মুখী নিজেকে গুটিয়ে নেন। নিজের কথাকে যুক্তি তর্কে উপস্থাপন করতে যান না।

অন্তর্মুখীরা সরলভাবে বছরের পর বছর নিজের পরিধিগুলো মেনে আসছে। নিজের চারপাশে  অন্য কেউ এসে এসব পরিধি ভেঙে দিবে তা মেনে নিতে পারেন না তারা। শান্ত প্রকৃতির হলেও এদের রাগ-জিদের অনুভূতিও তীব্র থাকে। হয়তো প্রকাশটা কম হয়। কিন্তু ধৈর্যের পরীক্ষায় তারা সবসময়ই ভালো করে। নতুনদের সঙ্গ তাদের খুব একটা পছন্দ নয়, তা ঠিক। তবে বোঝাপড়াটা মিলে গেলে অন্তর্মুখী মানুষের সঙ্গটাই বেশি উপভোগ্য হয়। কারণ তারা গভীর চিন্তাশীল ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হোন বলে প্রমাণ হয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়।

Link copied!