হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলা, তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ানোর পথে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলা, তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ানোর পথে

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আবারও জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে এসেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রণালিতে তারা দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর এ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে আইআরজিসি বলেছে, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী বাহিনীর আগ্রাসন ও শত্রুতার’ জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, তারা আরও ১০টি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে’ লক্ষ্য করেছে। এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ‘উসকানি ও সমর্থনে’ হরমুজের একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায়’ প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে তারা।

ইরানের সরকারি বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের ‘শক্তিশালী এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

এরই মধ্যে প্রণালিটি ঘিরে জাহাজ চলাচল কমে এসেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে মাত্র ৬টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৯টি। গত ১০ দিনের গড় ছিল ১২টি।
আরও পড়ুন

এর ফলে, আজ বুধবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট তেলের দাম ১ দশমিক ৫৭ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৬০ ডলার বা ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয়েছে ৯৪ দশমিক ৬৩ ডলারে।

এর আগে গত সপ্তাহেই ব্রেন্টের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছিল।

শুধু গত এক মাসেই ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হরমুজে সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

জাহাজ চলাচল কমে গেলে সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এর সঙ্গে বাড়ে জাহাজের বিমা খরচ ও পরিবহন ব্যয়। এসব খরচ শেষ পর্যন্ত তেলের দামের ওপরও চাপ তৈরি করে।

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদে আরও হামলার হুমকি দিয়ে আসছে।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তারা ঠেকিয়েছে। বাকি দুটি জনবসতি থেকে দূরে খোলা এলাকায় পড়ে। এতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে আম্মান।

তবে এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকলে সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হলে বিশ্ববাজারে আতঙ্ক আরও বাড়বে।

এরই মধ্যে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, হরমুজে নতুন করে সরবরাহ সংকট তৈরি হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা 

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!