ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড আগে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায় গুগল
ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড আগেই অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায় গুগল। বার্তায় সম্ভাব্য ভূমিকম্পের মাত্রা এবং ব্যবহারকারীর অবস্থান থেকে এর দূরত্ব দেখানো হয়, ফলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য তারা অল্প হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ পান।
প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই দুই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে।
এরপর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, গুগল কি ভূমিকম্পের আগাম পূর্বাভাস দিয়েছিল?
উত্তর হলো—না। গুগল ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়নি। বরং তাদের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে মূল আঘাতের কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, ফোনে সতর্কবার্তার অ্যালার্ম বাজতেই তারা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান।
যেভাবে কাজ করে গুগলের সতর্কবার্তা ব্যবস্থা
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন একেকটি ছোট ভূকম্পমাপক যন্ত্রের (সিসমোমিটার) মতো কাজ করে।
স্মার্টফোনে থাকা ক্ষুদ্র অ্যাকসেলরোমিটার ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করতে পারে। কোনো ফোনে এমন কম্পন ধরা পড়লে সেটি অবস্থানের আনুমানিক তথ্যসহ গুগলের সার্ভারে সংকেত পাঠায়।
একই ধরনের সংকেত যখন একসঙ্গে অসংখ্য ফোন থেকে আসে, তখন গুগলের সার্ভার সেগুলো বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারে ভূমিকম্প হচ্ছে কি না।
সংকেত আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে সার্ভারে পৌঁছায়, যা ভূমিকম্পের কম্পন ছড়িয়ে পড়ার চেয়ে অনেক দ্রুত। ফলে মূল কম্পন পৌঁছানোর আগেই ব্যবহারকারীদের ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হয়।
ভূকম্পবিদ ড. রিচার্ড অ্যালেন, ড. কিংকাই কং এবং দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ড. লুসি জোন্স যৌথভাবে এই প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছেন।
জাপান যেভাবে আগাম সতর্কবার্তা দেয়
দীর্ঘদিনের গবেষণার পরও এখনো ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জাপানের মতো দেশগুলো ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে দ্রুত মানুষকে সতর্ক করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
জাপান ২০০৭ সাল থেকে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু রেখেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভূমিকম্পের সম্ভাব্য তীব্রতা এবং কত সময়ের মধ্যে কম্পন আঘাত হানতে পারে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়।
২০২২ সালে জেএমএ এবং হেডকোয়ার্টার্স ফর আর্থকোয়েক রিসার্চ প্রোমোশন (এইচইআরপি) এই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে, যাতে বড় ধরনের মেগা-ভূমিকম্পের ঝুঁকিও শনাক্ত করা যায়।
এই ‘ফোরশক-ভিত্তিক সতর্কতা’ তখনই সক্রিয় হয়, যখন গুরুত্বপূর্ণ সাবডাকশন অঞ্চলে ৭ বা তার বেশি মাত্রার একটি প্রাথমিক ভূমিকম্প শনাক্ত হয়।
সূত্র: উইওন






































