তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ও বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে প্যারাগুয়ে ও বেলিজের দুই মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন।
আজ সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছে নিষেধাজ্ঞার এ ঘোষণা।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী গুস্তাভো ভিয়াতে ও বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিস ফনসেকা।
জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বেইজিং। ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে এ নিষেধাজ্ঞা।
চীনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা হবে দেশটিতে থাকা ওই দুই মন্ত্রীর সব সম্পদ। পাশাপাশি দেওয়া হবে না হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশের ভিসা। চীনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ওই ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেন, সহযোগিতা বা অন্য কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে করা হয়েছে নিষেধ।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনবিরোধী কিছু পলিটিশিয়ান ব্যক্তিস্বার্থে বজায় রেখেছেন নিজেদের দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের কূটনৈতিক সম্পর্ক।
বেইজিংয়ের দাবি, ওই দুই মন্ত্রী এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন, যা চীনের ‘মূল স্বার্থের’ ক্ষতি করছে।
প্যারাগুয়ে ও বেলিজ বিশ্বের সেই ১২টি দেশের মধ্যে রয়েছে, যারা তাইওয়ানের সঙ্গে বজায় রেখেছেন আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক।
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। তবে তাইওয়ান সরকার এই দাবি করে আসছে প্রত্যাখ্যান।
তাইওয়ানের জাতীয় দিবস উদযাপনের দুদিন পর চীনের এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো।
গত শনিবার জাতীয় দিবসের ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিংতে বলেছেন, তাইওয়ান শান্তিকে গুরুত্ব দেয়। তবে নিজেদের স্বাধীনতা ও মুক্তিও বিসর্জন দেবে না।
লাইয়ের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর। তাদের দাবি, ওই বক্তব্যে বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়েছে। সত্য বিকৃত করা হয়েছে। বিভ্রান্ত করা হয়েছে জনগণকে।
এর আগে জানুয়ারিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীন ও তাইওয়ানের ‘পুনরেকত্রীকরণ’ অর্জনের অঙ্গীকার করেন। তিনি এ লক্ষ্যকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
সূত্র : আলজাজিরা



















