মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিগগিরই ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের হামলা চালাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
গত রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কার্লসন এই দাবি করেন। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে তিনি ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা উল্লেখ করেন। এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনার একটি।
কার্লসনের দাবি, ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা, ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে। অন্যদিকে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে অবস্থিত। ফলে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে এসব স্থাপনায় আঘাত করা কঠিন। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
এক্সে কার্লসন লেখেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে।’
টাকার কার্লসন একজন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার। তিনি একসময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের উপস্থাপক ছিলেন। বর্তমানে এক্সে নিজের স্বাধীন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সেখানে নিয়মিত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের ফোনালাপ
কার্লসনের এ দাবি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
ফোনালাপটিকে ইসরায়েলি সূত্র ‘কঠিন’ এবং মার্কিন সূত্র ‘সরাসরি’ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পও ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি কথোপকথনকে ‘খুব ভালো আলোচনা’ বলে বর্ণনা করেন। তবে ইরান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে স্বীকার করলেও দুই নেতার মধ্যে কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া আবারও শুরু করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতিও নিচ্ছে তাঁর প্রশাসন।
















