পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগ বানোয়াট। তাকে সম্পূর্ণ বেআইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, “আইন অনুযায়ী ১৮ মার্চ পর্যন্ত আমি জামিন পেয়েছি। কিন্তু চার দিন আগেই পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি প্রক্রিয়া। বুধবার সকালে আমার আইনজীবীরা আদালতে এ পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করবেন। বাড়ির সামনে এত পুলিশ এসেছে, মনে হচ্ছে পাকিস্তানের বড় একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে তারা। তবে আমি গ্রেপ্তার হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি।”
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিকেলে লাহোরে জামান পার্ক এলাকায় পুলিশ ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে গেলে ইমরানের কয়েক শতাধিক কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্রায় ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘর্ষে প্রায় পুলিশ ও পিটিআই কর্মী-সমর্থক মিলে অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় বাড়িতে অবস্থান করলেও সংঘর্ষের জেরে এবং কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে ইমরানকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয় পুলিশ।
এদিকে মঙ্গলবার ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশ আজ ভোরে (বুধবার) তোশাখানা মামলায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের জন্য নতুন করে চেষ্টা করেছে।
পিটিআই তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছে, পুলিশ আবারও ইমরানের বাসভবনে টিয়ার গ্যাস ছুড়তে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় ইমরান খান বলেন, “পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে। তারা ভাবছে, আমাকে গ্রেপ্তারের পরও জাতি ঘুমিয়ে থাকবে। কিন্তু তাদের এই ভুল ধারণা ভেঙে দিতে হবে আপনাদেরকেই। যদি আমার কিছু হয়, অর্থাৎ আমাকে যদি জেলে পাঠানো হয় অথবা যদি আমাকে হত্যা করা হয়, সে ক্ষেত্রে ইমরান খানকে ছাড়াই আপনাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এই চোরদের সরকারে দাসত্বের জীবনযাপন থেকে লড়াই অনেক সম্মানের। আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা চাই।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত দায়রা জজ জাফর ইকবাল তোশাখানা মামলায় ক্রমাগত আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করতে লাহোরে তার জামান পার্কের বাসভবনে যায় পুলিশ। সে সময় দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ইমরান সমর্থকদের ইট-পাথরের জবাবে লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
পিটিআই দাবি করেছিল, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পরিকল্পনামাফিক হামলা চালিয়েছে পুলিশ। এতে তাদের একজন কর্মী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন পিটিআই সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।






























