চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনে একটি ছোট আকারের বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দুজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার গাড়ির সমান আকৃতির একটি ছোট উড়োজাহাজ ১০৯ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারে আছড়ে পড়ে। তাতে ভবনের উপরের দিকের একটি তলার দুটি কাচের প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বেইজিংয়ের বাণিজ্যিক এলাকার ওই ভবনটি 'চায়না জুন' নামেও পরিচিত। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বহুজাতিক কোম্পানি সিআইটিআইসি গ্রুপের সদর দপ্তর রয়েছে ওই ভবনে।
সিএনএন লিখেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নাটকীয় ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ভবনটি থেকে উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ছে। উড়োজাহাজের টেইল এবং নিচে থাকা একটি ট্যাক্সিক্যাবের ভাঙা কাচও দেখা যায় ভিডিওতে।
দুর্ঘটনার পরপরই ভবন থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়; বিপুল সংখ্যক পুলিশও মোতায়েন করা হয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর সিআইটিআইসি টাওয়ারের দিকে যাওয়ার বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা পথচারীদের দ্রুত সরিয়ে দেয় পুলিশ।
এসময় ছবি তুলতে এবং ভিডিও ধারণ করতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি যারা এরই মধ্যে ছবি তুলেছিলেন, পুলিশ তাদের অনেককে ছবি মুছে ফেলতে বাধ্য করে।
তারপরও দুর্ঘটনাস্থলের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেসব ছবিতে দেখা যাওয়া উড়োজাহাজের রেজিস্ট্রেশন কোড বিশ্লেষণ করে সিএনএন লিখেছে, সেটি একটি লাইট স্পোর্টস এয়ারক্রাফট বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা’ মডেলের উড়োজাহাজটির মালিক স্থানীয় একটি এভিয়েশন কোম্পানি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ এর তথ্যে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটি তার নির্ধারিত গতিপথ থেকে অনেক সরে গিয়েছিল।
গত ১ মে থেকে বেইজিংয়ের আকাশসীমায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে শহরটি কার্যত ড্রোন-মুক্ত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অনুমোদন ছাড়া শহরের সীমানার ভেতর বাসিন্দারা ড্রোন কিনতে, ভাড়া নিতে বা ওড়াতে পারবেন না।
এর মধ্যেই একটি উড়োজাহাজের এমন দুর্ঘটনার পর শহরের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



































