মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানি জাতির বিরুদ্ধে করা সাম্প্রতিক হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান কোনো অসম্মানজনক ভাষা সহ্য করবে না এবং প্রয়োজনে যথাযথ জবাব দেবে।
সোমবার (৬ জুলাই) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধে ‘যে কোনো উপায়ে’ জিতবে।
ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘আমরা হয় একটি চুক্তিতে আসব, অথবা কাজটি শেষ করে দেব। কাজটি শেষ করা কঠিন হবে না।’
সোমবার জারি করা এক বিবৃতিতে, যুলঘাদর সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ইরানের ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষকে হুমকি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প এখন বিভ্রান্ত।
যুলঘাদর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিভ্রান্ত প্রেসিডেন্টকে, যিনি আজ ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানিকে হুমকি দিয়েছেন, আমি বলছি: এর আগে, মাত্র ২৫০ বছরের ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি শিকড়হীন দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে, আপনি ইরানের কয়েক হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতা মুছে ফেলার বিষয়ে একই ধরনের কথা বলেছিলেন। আপনার জন্য একমাত্র পরিণতি ছিল পরাজয়, অসহায়ত্ব এবং আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া আবেদন।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানিরা বিদেশিদের হুমকির ভাষায় অভ্যস্ত নয় এবং তাতে তারা বিচলিতও হয় না।
‘ইরানিরা হুমকির ভাষায় অভ্যস্ত নয়। তাই, ইরানি জনগণের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলুন; অন্যথায়, আমরা আপনাদের ভিন্ন ভাষায় জবাব দেব,’ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাটি সতর্ক করেন।
ওয়াশিংটনের বারবার ভয় দেখানোর প্রচেষ্টার সুস্পষ্ট প্রত্যাখ্যান হিসেবেই এই মন্তব্যটি এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়।
ইরানি কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর গর্বিত জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধমক বা অসম্মানজনক কথাবার্তার কাছে কখনো মাথা নত করবে না।
এসএনএসসি প্রধানের এই বিবৃতি ইরানের প্রাচীন সভ্যতা এবং জাতির অটুট ইচ্ছাশক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তার শক্তি, মর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাসের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
তেহরান বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যে কোনো আগ্রাসন বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জবাব একটি দৃঢ়, সুচিন্তিত এবং যথাযথ উপায়ে দেওয়া হবে।
































