• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১,

ফকির আলমগীরের দাফন সম্পন্ন


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২১, ০২:২৮ পিএম
ফকির আলমগীরের দাফন সম্পন্ন

খিলগাঁও তালতলা  কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে গণসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরকে। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের মরদেহ কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে তার মরদেহে বন্ধু, সহকর্মী ও ভক্তরা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

শহীদ মিনার থেকে ফকির আলমগীরের মরদেহ খিলগাঁও মাটির মসজিদে নেয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে তালতলা কবরাস্থানে সমাহিত করা হয়। এর আগে সকাল ১১টায় খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদ মাঠে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়; সেখানে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।

ফকির আলমগীর বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বর ও খুসখুসে কাশিতে ভোগার পর চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৪ জুলাই কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার পর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় রাতে গ্রিন রোডের ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ প্রয়োজন পড়লে গুলশানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকায় জটিলতা বাড়তে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফকির আলমগীরের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়।

ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফকির আলমগীর। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন ৭১ বছর বয়সী এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলে। গানটি লিখেছেন আলতাফ আলী হাসু। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর।

সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পর্যন্ত পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’, ‘শেরেবাংলা পদক’, ‘ভাসানী পদক’, ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার’, ‘তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক’, ‘জসীমউদ্‌দীন স্বর্ণপদক’, ‘কান্তকবি পদক’, ‘গণনাট্য পুরস্কার’, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মহাসম্মাননা’, ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় পুরস্কার’, ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড যুক্তরাষ্ট্র’, ‘জনসংযোগ সমিতি বিশেষ সম্মাননা’, ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিশেষ সম্মাননা’ ও ‘বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ’।

Link copied!