রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ১ম দিনের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষার মাধ্যমে এ ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এরপর দুপুর ১২ টায় দ্বিতীয় শিফট ও বিকাল ৩টায় তৃতীয় শিফটের পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়। সকল শিফটের পরীক্ষায় নির্ধারিত সময় ছিল ১ ঘণ্টা।
এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ৪ হাজার ১৯১ আসনের বিপরীতে পরীক্ষা দিবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৭ শিক্ষার্থী। প্রতি আসনের জন্য লড়ছে ৩১ শিক্ষার্থী। এছাড়া, মঙ্গলবার ৫ অক্টোবর ‘এ’ ইউনিট (মানবিক) ও পরদিন ৬ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিটের (বাণিজ্য) পরীক্ষা যথারীতি তিন শিফটে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজশাহীতে এসেছেন। তাদের সাথে রয়েছেন অভিভাবকও। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই রোববারের মধ্যে রাজশাহীতে এসে বাসা, মেস ও হোটেলগুলোতে অবস্থান করছিলেন। তবে রাজশাহী অঞ্চলের অনেকেই আজ (সোমবার) সরাসরি পরীক্ষা দিতে এসেছেন। এসময় ক্যাম্পাস নবীন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ঢাকা বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা শিক্ষার্থী বাসিত আল সিদ্দিক সাম্য পরীক্ষা দেবেন ‘সি’ ইউনিটে। কেন্দ্র পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ একাডেমিক ভবনে। ছেলেকে হলে ঢুকিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করছেন তার মা সেলিমা ডেইজী। তিনি বলেন, “আমি ঢাকা থেকে এসেছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ। করোনাকালে আমার ছেলে ভর্তি পরীক্ষার জন্য মোটামুটি ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। আমার প্রত্যাশা সে চান্স পাবে।”
মেয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম থেকে আসা এক অভিভাবক বলেন, “আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। এখানে এসে আবাসন সংকটের সম্মুখীন হয়েছি। এ জন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও যদি বিভাগীয় শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে দূরের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হতো।”
পরীক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এছাড়া বিএনসিসি, স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম, রোভার স্কাউটস সদস্যদের যানবাহন চলাচল ও পার্কিং তত্ত্বাবধান করতে দেখা গেছে। এদিকে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পুরো ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব পরীক্ষা কেন্দ্রের অবস্থান চিহ্নিত করতে বিভিন্ন পয়েন্টে বুথ স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। বুথগুলোর কার্যক্রমে আরো রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, পানি, মাস্ক, কলম, ফাইল বিতরণ। এছাড়া কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশের উদ্যোগে খাবারের দোকানগুলোতে অভিযান চালাতে দেখা গেছে। তারা দোকানের মূল্য তালিকা দেখার পাশাপাশি খাদ্যের মান ঠিক আছে কিনা তা দেখেছে।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে স্থায়ী তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচিতির জন্য সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখা, কলম ও আনুষঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খাবার পানির ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত অথচ পরীক্ষাকেন্দ্রে বহন অনুপযোগী জিনিসপত্র রাখার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বুথ স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে খাবার পানি, প্রয়োজনীয় ব্যাগ সংরক্ষণ, মাস্ক বিতরণ, ও পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচিতির জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ থাকায় আবাসন সংকট নিরসনের কথা বিবেচনায় প্রায় ৬০০ জন ভর্তিচ্ছুর আবাসন নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি।
এদিকে ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ৪০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পরীক্ষা ঘিরে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ শতাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।



























