৪১ বাঁক, ৫১ গর্তে জর্জরিত কাপাসিয়া-গাজীপুর সড়ক


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
৪১ বাঁক, ৫১ গর্তে জর্জরিত কাপাসিয়া-গাজীপুর সড়ক

যেখানে গন্তব্য ৪০ মিনিটের, সেখানে পৌঁছাতে লাগছে দেড় ঘণ্টা। খানাখন্দে ভরা ভাঙাচোরা সড়কের কারণে এভাবেই দুর্ভোগে পড়ছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও শ্রীপুর উপজেলার হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কাপাসিয়া-চেরাগআলী আঞ্চলিক সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক ভোগান্তির নাম।

কাপাসিয়া বাজার থেকে চেরাগআলী মোড় পর্যন্ত সড়কে প্রায় ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসহ আছে ৫১টি বড়-ছোট খানাখন্দ। এই সড়কে অটোরিকশা চালান সোহরাব হোসেন। তিনিই জানালেন, আমরাইদ থেকে গাজীপুর যেতে লাগার কথা ৪০ মিনিট। এখন লেগে যাচ্ছে দেড় ঘণ্টার মতো সময়।

‘রাস্তায় অসংখ্য গর্তের কারণে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ধীরগতিতে চলতে হয়। তাই যাত্রীরাও বিরক্ত হন’- বলছিলেন আরেক অটোচালক মো. সোহেল মিয়া। বর্ষাকালে আরও বেহাল হয় সড়কটি, জানালেন পিকআপচালক মো. রফিকুল ইসলাম।

প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে গাজীপুরে কাজে যান শারমিন আক্তার। ‘সড়কে ভাঙাচোরার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে’- বিরক্ত তিনি। 

চলাচলে সময় নষ্ট হওয়ার আরেক কারণ- রাস্তাটি কিছু অংশে বেশ সরু। অনেক স্থানে দুটি যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করতে পারে না। বিভিন্ন বাঁকে ঝুঁকিও বাড়ে দুর্ঘটনার। এসব জানালেন তিলশুনিয়া গ্রামের শিউলী আক্তার।

বেহাল সড়কের প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের কাজেও। পণ্য পরিবহনে লাগছে অতিরিক্ত সময় ও খরচ- অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবিরের ক্ষোভ- ‘বছরের পর বছর ধরে মানুষ এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। মাঝে মধ্যে অস্থায়ী মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।’

দ্রুত রাস্তাটি মেরামত ও প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন নিয়মিত চলাচলকারীরা।

সড়কটি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নয়, গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে বলে জানালেন কাপাসিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা।

রাস্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে- বললেন গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ। তার কথা, সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন কর্মকর্তারা।

স্বদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!