• ঢাকা
  • রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৪ শা’বান ১৪৪৫

গাছতলায় পাঠদান, বৃষ্টি হলেই কার্যক্রম বন্ধ


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৩, ০৯:২৫ এএম
গাছতলায় পাঠদান, বৃষ্টি হলেই কার্যক্রম বন্ধ

ধর্মীয় শিক্ষার আলোতে ললিয়াপুর নুরে মদিনা চার গ্রাম মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়। ছোট ঘরে ছাত্রছাত্রীদের পড়ার স্থান সংকুলান না হওয়ায় বর্তমানে গাছতলায় চলছে কার্যক্রম। কিন্তু বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়া দেখেই বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান কার্যক্রম। ভবন সংকটের কারণে চার শতাধিক ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা এভাবেই চলছে। 

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের বাঘমারা ললিয়াপুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের বাঘমারা, ললিয়াপুর, কাটালবাড়ি ও চান্দারগাঁও এলাকার লোকজন দুই বছর আগে রাস্তার ওপর একটি ছোট টিনশেডের ঘরে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করে। এ সময়ের মধ্যে মাদ্রাসাটি ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করায় এতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী মাদ্রাসাটিতে শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বৃষ্টির দিনেও গাছতলায় বসিয়ে শিক্ষকরা পাঠদানের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে মাদ্রাসাটিতে ৫ জন শিক্ষকের দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম দেখে ললিয়াপুর (নতুর হাটি) গ্রামের শিক্ষানুরাগী মৃত আব্দুল বারীর চার ছেলে মিলে ৩০ শতক জমি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দান করেন। এরপর এলাকার লোকজনের আর্থিক সহযোগিতায় ওই জমিতে মাটি ভরাট করে একটি ছোট টিনশেডের ঘর নির্মাণ করা হয়।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের এ মাদ্রাসাটি নানা সমস্যার সম্মুখীন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে ঘরের সংকট। একটি টিনশেড ঘর তৈরি করে বেড়া (ঘরের চার পাশের দেয়াল) দিতে পারছি না। তাই সমাজের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা প্রসারের জন্য সমাজের বৃত্তবান ও শিক্ষানুরাগী দানবীরদের কাছে সহযোগীর হাত বাড়াতে আহ্বান করছি। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা-কার্যক্রম প্রসারে সরকারেরও সুদৃষ্টি কামনা করছি।”

এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, “এ মাদ্রাসাটি নানাবিধ সংকট মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দিতে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাই সবার প্রতি আমার অনুরোধ, আর্থিক সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়ে মাদ্রাসাটির শিক্ষা-কার্যক্রম সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।”

Link copied!