• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে স্বস্তির ঈদযাত্রা


টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৩, ০৮:৩৭ এএম
বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে স্বস্তির ঈদযাত্রা

বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে দীর্ঘ ২৭ বছরের মধ্যে ঈদযাত্রায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে ঘরমুখো মানুষ। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ও স্থানীয় প্রশাসনের সার্বক্ষণিক তৎপরতার কারণে দীর্ঘদিন পর ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়ায় পরিবহন চালক-যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা অনেক খুশি।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিটি ঈদযাত্রায় যানজট ছিল নিত্যসঙ্গী। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকতো। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে পরিবহন ও যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হতো। ঢাকা থেকে সেতু পার হতে তিন ঘণ্টার রাস্তা পাড়ি দিতে ৮ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতো। যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতো। বিশেষ করে নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের ঈদযাত্রার দুর্ভোগ ছিল অবর্ণনীয়।

ঈদযাত্রায় মহাসড়কে চলাচলকারী পরিবহন ও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সব সময় তটস্থ থাকতেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মহাসড়কের স্ব-স্ব এলাকায় অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ, পানীয় জলের সংস্থানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট থাকতেন। যাত্রীদের প্রয়োজনে গড়ে উঠেছিল বেশ কিছু অস্থায়ী দোকান।

এ বছর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ যাত্রী পদ্মা সেতু দিয়ে বাড়ি গিয়েছেন। এ ছাড়া মহাসড়ক ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে (সাইড রোডসহ) প্রশস্তকরণ করা এবং বাকি সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কে ডিভাইডার বিহীন দুই লেন একমুখীকরণ (উত্তরবঙ্গমুখী) ও ঢাকাগামী পরিবহনগুলো ভূঞাপুর লিংক রোড ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়ায় দীর্ঘ দিনের যানজটের অবসান হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

শ্যামলী পরিবহনের চালক আফছার আলী, এসআই পরিবহনের চালক রাকিবুল ইসলাম ও সুপারভাইজার ফরহাদ আলী, ঈশাখাঁ পরিবহনের চালক মোকাদ্দেস, ঈশ্বরদী এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার রায়হানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সুপারভাইজাররা জানান, এ মহাসড়ক তাদের কাছে যানজটের অপর নাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। মহাসড়ক চার লেন হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা ও পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এবার স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পেরেছেন। যাত্রীদেরও কোনো অভিযোগ শুনতে হয়নি।

মহাসড়কে যাতায়াতকারী বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রী সাথী বেগম, সাদ্দাম হোসেন, কাকলী আক্তারসহ অনেকেই জানান, গত ঈদে তারা ৭-৮ ঘণ্টার জটে পড়েছিলেন। এবার মহাসড়কে যানজট না থাকায় সাছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারছেন।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে এবার ভোগান্তি হয়নি। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগ ও বাসেক (বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ) সবাই মিলে সড়ক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকায় সাছন্দ্যে মানুষ যাতায়াত করতে পেরেছে। 

Link copied!