• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

অলৌকিক প্রসাদ খেয়ে অচেতন সবাই, পরে সাধুবাবার লুটপাট


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ০৪:৫৮ পিএম
অলৌকিক প্রসাদ খেয়ে অচেতন সবাই, পরে সাধুবাবার লুটপাট

মানিকগঞ্জ সদরের আন্ধারমানিক এলাকায় একই পরিবারের ছয় সদস্যকে অলৌকিক প্রসাদ খাইয়ে অচেতন করে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল চুরি করেছে এক প্রতারক সাধুবাবা।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সাধুবাবা ওরফে বাচ্চু প্রধানকে (৭৩) চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার নারায়ণপুর এলাকা গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহা।

ভাস্কর সাহা বলেন, সাধুবাবা ওরফে বাচ্চু প্রধান একজন পেশাদার প্রতারক। ৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) মানিকগঞ্জ সদরের আন্ধারমানিক এলাকায় পঙ্কজ কুমার মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে নিজেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদি (লোকনাথের আশ্রম) থেকে আগত সন্ন্যাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আশ্রয় চান।

তারপর সেই বাড়িতে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর তার হাতে মাখানো স্যাকারিন মিশ্রিত মাটি খেতে দেয়। ফু দিয়ে কাগজে আগুন ধরিয়ে ওই পরিবারের সকলকে চমকে দিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করেন। দুই রাত সেই বাড়িতে অবস্থান করেন তিনি। এক সময় সুযোগমত সাধুবাবা ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত অলৌকিক প্রসাদ খাইয়ে একই পরিবারের ছয় সদস্যকে অচেতন করে তাদের টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যান।

পরেরদিন, প্রতিবেশীরা তাদের অচেতন অবস্থা দেখে স্থানীয় কাউন্সিলর আবু মোহাম্মদ নাহিদকে খবর দেয়। পরে পুলিশকে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউন্সিলর ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় মুমূর্ষু ব্যক্তিদের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুই/তিনদিন পর তাদের জ্ঞান ফিরলে সকলের অচেতন হয়ে থাকার প্রকৃত কারণ জানা যায়। এই ঘটনায় পঙ্কজ বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান জানান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান স্যারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহা স্যারের নেতৃত্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাচ্চু প্রধানকে তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই টুটুল উদ্দিন ও এসআই মনিরুজ্জামান প্রতারক সাধুবাবাকে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার নারায়ণপুর এলাকা গ্রেপ্তার করে।

আকবর আলী খান আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বাচ্চু প্রধান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তার হেফাজতে থাকা লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার বাদী ও অন্যান্য ভিকটিম বাচ্চু প্রধানই যে সেই প্রতারক সাধুবাবা সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

Link copied!