• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২১ জুন, ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১, ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

১৭ দিন ধরে পানিবন্দী ২৫০ গ্রামের মানুষ


ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১, ০৩:২৫ পিএম
১৭ দিন ধরে পানিবন্দী ২৫০ গ্রামের মানুষ

ফরিদপুরে ১৭ দিন ধরে পানিবন্দী রয়েছেন ২৫০ গ্রামের মানুষ। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।

এদিকে ফরিদপুরে পদ্মার পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে ফরিদপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা ও সদরপুর থানার ২৫০ গ্রামের মানুষ ১৭ দিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

ভেঙে গেছে সড়ক। হয়েছে ফসলের ক্ষতি। এইসব এলাকাসহ মধুখালী ও আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়নেও দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। চাহিদার তুলনায় ত্রাণ তৎপরতা তেমন চোখে পড়ছে না।

জানা গেছে, ফরিদপুর সদরের তিনটি, চরভদ্রাসনের চারটি, সদরপুরের দুটি এবং ভাঙ্গার একটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে মধুখালী ও আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়নে।

এই ১০ ইউনিয়নের ২৫০ গ্রামের ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর সদরের ডিক্রির চর  ইউনিয়নে পানিবন্দী মানুষ বেশি। এখানের ১ হাজার ৮০০ পরিবার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে।

ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, পানিতে আমার ইউনিয়নের একশ একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নে তিনটি সড়কের বিশাল অংশ পানির তোড়ে ধসে গেছে।

বন্যাদুর্গতদের মধ্যে যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে তা অপর্যাপ্ত বলে জানান সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা। সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ৭৫০ পরিবারকে শুকনো খাবার এবং ২৬ বস্তা গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। চর মাধবদিয়াতে ১০০ জনকে শুকনো খাবার ও ১০ বস্তা গোখাদ্য দেওয়া হয়।

ডিক্রির চর ইউনিয়নে ৬৫০ জনকে শুকনো খাবার ও ২০ বস্তা গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। চরভদ্রাসনের চর ঝাউকান্দায় ২০০ পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। নাসিরাবাদে ৭৫০ জনকে শুকনো খাবার ও ২৬ বস্তা গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

চরভদ্রাসনের বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর সিকদার বলেন, আমাদের বাড়ির চারপাশে থৈ থৈ পানি। ঘরে পানি ঢুকে গেছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘরে চৌকি উঁচু করে থাকছি। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে ঘরের চৌকিতেও থাকতে পারব কি না সেই চিন্তায় আছি।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরও তিন থেকে চারদিন পানি বাড়তে থাকবে। ভাঙন রোধে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
 

Link copied!