• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

প্রায় দুই যুগ ধরে গর্তে রবিউল


ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২১, ০৩:২৩ পিএম
প্রায় দুই যুগ ধরে গর্তে রবিউল

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রায় দুই যুগ ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মানসিক ভারসাম্যহীন রবিউল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবক। 

জানা যায়, রবিউল উপজেলার ময়না ইউনিয়নের পশ্চিম চরবর্ণী গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা পেশায় একজন ভ্যানচালক।

রবিউলের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “রবিউল আমার বড় ছেলে। ওর বর্তমান বয়স ৩০ বছর। ওর বয়স যখন ১০ বছর তখন হঠাৎ করে একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপর থেকে আস্তে আস্তে শরীর শুকিয়ে যায়। স্থানীয় ছাড়াও জেলা সদর থেকে শুরু করে বড় বড় ডাক্তার, কবিরাজ, ফকির, হুজুরের সব ধরনের চিকিৎসা করেছিলাম। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। দিন দিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ভাঙচুর-পাগলামি করার কারণে কোমরে ও পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি।”

রবিউলের ছোট ভাই ইানামুল হোসেন বলেন, “আমি জন্মের পর থেকেই বড় ভাইটার এই অবস্থা দেখে আসছি। বর্তমানে ভাই যে ঘরে থাকে এখানে আমাদের মুদি দোকান, ঘর ছিল। দীর্ঘ প্রায় একযুগেরও বেশি এই ঘরেই আমার ভাইটা এইভাবে পড়ে আছে। ঘরটিতে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ। কোমর ও পায়ে শিকল দিয়ে বাঁধা। সারাদিন শুধু হাত দিয়ে মাটি খুঁড়ে। হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না। শরীরে কোনো কাপড়-চোপড় রাখে না।”

এ ব্যাপারে স্থানীয় ময়না ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য (মেম্বার, ৬নং ওয়ার্ড) মো. মোস্তাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, “রবিউল মানসিক ভারসাম্যহীন। দীর্ঘ প্রায় এক যুগের বেশি তাকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে তারা সাহায্য-সহযোগিতার জন্য কখনো আসেন না। তারপরও সামনে কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা আসলে তাদের দেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, “আমরা খবর পেয়ে সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সহায়তা ও ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। তার বাবাকে রবিউলের জন্য একটি পাকা ঘর নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”

Link copied!