• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক


গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২১, ০৫:৪৯ পিএম
গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

গাজীপুরের টঙ্গী ভাদাম এলাকায় ক্রসলাইন নিট ফেব্রিক্স কারখানায় শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে উৎপাদন বন্ধ রেখে দফায় দফায় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সকালে বিক্ষোভের সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে অন্তত অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, ভাদাম এলাকায় শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল থেকে কারখানা মূলফটকের সামনে বিক্ষোভ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ২১ রাউন্ড রাবার বুলেট ৫৮ রাউন্ড শটগান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের সময় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও পুলিশ আহত হন।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এএসআই এমদাদুল হক, মেহেদী, সাব্বির, আশরাফুল, মারুফ তমাল ও আনসার সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, রেজাউল করিম এবং মোহাম্মদ আলী মোল্লা আহত হন।

আহতদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অপরদিকে টঙ্গীর দাড়াইল এলাকায় এসঅ্যান্ডপি বাংলা লিমিটেড পোশাক কারখানায় হঠাৎ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ নোটিশ জারি করেন কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের নামাজপড়া, পাঞ্জাবি দাঁড়ি ও টুপি পড়ে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে কারখানার শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

ঘটনাস্থলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও থানা পুলিশ কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ ইসলামি রাষ্ট্র অনুযায়ী আইন মেনে কারখানার পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হলে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে কর্মস্থলে ফিরে যান।

এ সময় কারখানায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার অপরাধ দক্ষিণ ইলতুৎমিস, সহকারী পুলিশ কমিশনার পীযূষ কুমার দে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস আলম, টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম।

এ বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস আলম জানান, ক্রসলাইন লিমিটেড পোশাক কারখানার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। দুটি কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 

Link copied!