• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

অসুস্থ ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আকুতি পরিবারের


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২১, ০৩:৪২ পিএম
অসুস্থ ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আকুতি পরিবারের

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালীর কেশবপুর গ্রামের মহিউদ্দীনের ছেলে মোদাচ্ছের হোসেন পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট মালয়েশিয়া পাড়ি জমান।

সেখানে একটি চীনা মালিকানাধীন একটি রাবার কারখানায় কাজ করে আসছেন। যার ইমপ্লয়ারর আইডি-৪৩০৩। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছর ধরে শারীরিক অবস্থা বেশি একটা ভালো না তার।

মোদাচ্ছের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলে জানান, তিনি দীর্ঘ দেড় বছর অসুস্থ অবস্থায় কাজ করছেন। কোম্পানির মালিককে বলেও ছুটি মিলছে না। ছুটি চাইলেই মাসের পর মাস ঘুরাচ্ছেন। এভাবেই কেটে গেছে দেড় বছর।

প্রবাসী মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, “বিদেশের মাটিতে চিকিৎসাসেবা নিতে এই দেড় বছরে আমার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তারপরও আমি পাইনি কোনো সুচিকিৎসা। আমার হার্টের সমস্যা, পেট ফুলে থাকে, খেতে পারি না, বুকে ব্যথার জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। সব সময় বুকের ভেতর জ্বালা-যন্ত্রণা করে। তাই আমি কাজ বাদ দিয়ে এখন দেশে আসতে চাই। দেশে মা-বাবা, স্ত্রী, কন্যা ও সন্তানদের নিয়ে বাকি জীবন যাপন করতে চাই।”

মোদাচ্ছেরের বাবা মহিউদ্দীন বলেন, “আমার ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতায় নিরাপদে দেশে ফিরে আসার জন্য আমার যা করা দরকার আমি তাই করব। কিন্তু আমার ছেলেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে এনে সুচিকিৎসা করাতে চাই। আমি বাবা হিসেবে আমার সন্তানের অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে কাজ করবে এটা যে কী কষ্টের, তা সবাইকে বলে বোঝানো সম্ভব না।”

মোদাচ্ছেরের স্ত্রী নার্গিস বেগম বলেন, “আমার স্বামী দেড় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অসুস্থ অবস্থায় কাজ করছে ওখানে ডাক্তার দেখিয়েছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঝিনাইদহ আল-মদিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের ডা. বিশ্বনাথ সরকারের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলে। ডাক্তারের মাধ্যমে ওষুধ লিখে সেই ওষুধ কিনে কুরিয়ার করে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছি। তারপরও সেই ওষুধ খেয়ে তেমন কোনো শরীরের পরিবর্তন হয়নি। তবে এখানকার চিকিৎসক বলেছে দ্রুত দেশে এসে চিকিৎসাসেবা নিতে। তা না হলে শরীরের বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমি সরকারের ওপর মহলের কাছে জোর দাবি জানাই, আমার স্বামীকে দেশে আসার সব ব্যবস্থা করে দেয় যেন। আমি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি তাকে যেন মালয়েশিয়া থেকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার সব ব্যবস্থা করা হয়।”

Link copied!