নকআউট পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষের শক্তির পাশাপাশি মেক্সিকো সিটির উচ্চতাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে খেলতে হবে ইংলিশদের, যেখানে অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সামনে উচ্চতাজনিত সমস্যার মোকাবিলায় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ভায়াগ্রা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মূলত যৌন সক্ষমতার ওষুধ হিসেবে পরিচিত হলেও ভায়াগ্রার প্রাথমিক গবেষণা হয়েছিল উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ফুসফুসের রক্তনালী প্রসারিত করতে সাহায্য করে, ফলে উচ্চতায় শরীরে অক্সিজেন পরিবহন সহজ হতে পারে। এ কারণে উচ্চতাজনিত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ কমাতে এটি কিছুটা কার্যকর হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভায়াগ্রা ডোপিংবিরোধী সংস্থা ওয়াদার ২০২৬ সালের নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় নেই। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহার করলে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রশ্ন ওঠে না।
তবে অতীতে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছিল এফএ। ২০০৯ সালে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময় সংস্থাটি জানিয়েছিল, খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সে সময় এফএর এক মুখপাত্র বলেছিলেন, দলের মেডিকেল বিভাগ উচ্চতাজনিত সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কাজ করলেও ভায়াগ্রা ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় ছিল না।
এদিকে, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা আসন্ন ম্যাচের আগে সত্যিই ভায়াগ্রা ব্যবহার করবেন—এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আপাতত সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইংল্যান্ড দল শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছাবে। ফলে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের হাতে থাকবে মাত্র দুই দিন। এর আগে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয়ের পর কোচ টমাস টুখেল দলকে আবার আটলান্টার অনুশীলন ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেন, যাতে নিরপেক্ষ পরিবেশে কৌশলগত প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায়।
দলের নিরাপত্তা ও বিশ্রামের বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেক্সিকো সিটিতে ইংল্যান্ড দলের হোটেলের অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে এবং হোটেলের আশপাশে অস্থায়ী সড়ক নিয়ন্ত্রণেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ম্যাচের আগের রাতে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের উচ্চ শব্দে বিরক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল।
আজতেকার উচ্চতায় বল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দূর যায় এবং দীর্ঘ সময় দৌড়ঝাঁপ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, স্বাগতিক মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা এ ধরনের পরিবেশে খেলতে অভ্যস্ত। গত ৫৬ বছরে নিজেদের মাঠ আজতেকায় তারা মাত্র দুইবার হেরেছে।
নকআউট পর্বে একটি ভুলই বিদায় নিশ্চিত করতে পারে। তাই উচ্চতাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত কোন কৌশল গ্রহণ করে, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

































