মেসি নির্ভরতা আর্জেন্টিনার বড় চিন্তা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
মেসি নির্ভরতা আর্জেন্টিনার বড় চিন্তা

ভয়ডরহীন ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে বড় এক সতর্কবার্তা দিয়ে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। তাদের বিপক্ষে অনেক কিছুই এখন নতুন করে ভাবাচ্ছে দলটিকে। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে অবশ্য মিশর মনে হয় না শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে তাদের। তবে সামনের দিকে যতই অগ্রসর হবে, আর্জেন্টিনার ব্যাকলাইন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে দুইটা ফ্ল্যাঙ্ক এরিয়াতে, ফুলব্যাক এরিয়াতে বেশ কিছু খামতি লক্ষ্য করা গেছে। ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনেও আর্জেন্টিনার কিছু ঘাটতি রয়েছে।

আমরা এটাকে বলি রেস্ট ডিফেন্স। যখন আর্জেন্টিনা পজেশনে থাকে, প্রতিপক্ষের অর্ধে বল দেওয়া নেওয়া করে, ওই সময় কোনোভাবে বল হারায় এবং প্রতিপক্ষ দল যদি কাউন্টার অ্যাটাক করে, তখন আর্জেন্টিনার জন্য বড় বিপদ হতে পারে। কোচিং পরিভাষায় রেস্ট ডিফেন্স বলে একটা কথা আছে। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে ডিফেন্সটা কিভাবে রিঅর্গানাইজ হবে এবং ট্রানজিশনে কিভাবে মিডফিল্ডারদের প্রতিক্রিয়া দেখাবে, কত দ্রুত তারা রিট্রিট করবে, সেটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম থেকেই আমার মনে হয়েছে আর্জেন্টিনা কিছুটা টেনশনের মধ্যে ছিল। তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজও আমার কাছে কেন জানি মনে হয়েছে তারা একটু বেশিই সতর্ক হয়ে খেলতে চেয়েছে। কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়েছিল। উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে কোয়ালিফাই করে এসেছে।

কেপ ভার্দের তিন ম্যাচের পারফরম্যান্স যে মোটেই ফ্লুক ছিল না, এটা তারা প্রমাণ করেছে আর্জেন্টিনার সঙ্গে। শক্তির বিচার যদি করি, ইচ অ্যান্ড ইন্ডিভিজুয়াল প্লেয়ার টু প্লেয়ার যদি আমরা তুলনা করি, তাহলে অবশ্যই আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল। তবে কেপ ভার্দের খেলা দেখে কখনোই মনে হয়নি তারা এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে খেলছে। তাদের এই লড়াই করার মানসিকতা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে তাদের গোলকিপার ভোজিনহা এই বিশ্বকাপের অন্যতম আবিষ্কার। যদিও তার বয়স ৪০ বছর, তারপরও মেসিদের সামনে সে ভড়কে যায়নি, অসাধারণ খেলেছে এবং তার অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই ম্যাচটা এত ক্লোজ হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রায় ৮-৯ শট অন টার্গেট সে সেভ করেছে।

আর্জেন্টিনাকে এখন অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রথমত অতিমাত্রায় লিওনেল মেসি নির্ভরতা আর্জেন্টিনার জন্য একটা বড় চিন্তার বিষয়। আর্জেন্টিনার গোল স্কোরার আসলে কারা? এ ম্যাচেও দুই ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেস ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করেছে।  যদিও রোমেরোর গোলটা পরে আত্মঘাতী বলা হয়, তারপরও বলব, সেন্টার ব্যাকরা গোল করছে সেট পিস থেকে। ফ্রন্ট লাইনের প্লেয়ার, বিশেষ করে লাউতারো মার্তিনেস, এনসো ফার্নান্দেস কিংবা দে পল— এরা কিন্তু গোলের মধ্যে নেই।

এখানে আর্জেন্টিনা পুরোপুরি মেসি নির্ভর হয়ে পড়েছে। এটাও বড় চিন্তার বিষয়। অবশ্যই মেসি নির্ভরতা থাকবে। তিনি যে কোনো সময় যে কোনো দলের বিপক্ষে গোল করতে পারেন। তবে যদি কোনো একটা শক্ত প্রতিপক্ষের সঙ্গে কোনো একটা স্টেজে, হতে পারে সেমিফাইনাল পর্যায়ে যাওয়ার পর যদি মেসি গোল করতে না পারেন, তাহলে অন্যরা কি পারবেন দলকে এগিয়ে নিতে? গোল করার মানুষ কিন্তু আর্জেন্টিনা দলে খুব বেশি নেই। এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়েও চিন্তা করতে হবে এবং ট্রানজিশন অ্যাটাক টু ডিফেন্সে মিডফিল্ডাররা খুব দ্রুত রি-অ্যাক্ট করতে না পারলে, ব্যাকলাইনকে হেল্প করতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার বেশ কিছু দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। তা সত্যেও তারা উতরে গিয়েছে। সামনে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে উতরে যাওয়া সহজ হবে না।

Link copied!