এলিয়েন খুঁজতে বানানো হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২২, ০৬:০৮ পিএম
এলিয়েন খুঁজতে বানানো হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ

একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় একটি বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ৫ ডিসেম্বর। নির্মাণ করা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ। স্কয়ার কিলোমিটার এরে (এসকেএ) নামের এই টেলিস্কোপটির কাজ শেষ হবে ২০২৮ সালে।

বিশাল এই টেলিস্কোপটি একক কোনো টেলিস্কোপ নয়। এতে থাকবে ২০০টি বিশাল ডিশ এন্টেনা আর ক্রিসমাস ট্রির মতো দেখতে ১ লাখ ৩১ হাজার ডাইপোল এন্টেনা। অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়ানো থাকবে টেলিস্কোপটি। এর প্রধান কার্যালয় হবে যুক্তরাজ্যে। এই প্রকল্পে কাজ করছেন মোট ৮ টি দেশের প্রতিনিধিরা।

নভোপদার্থবিজ্ঞানের জটিল প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে এই টেলিস্কোপ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় ৩০ বছর আগে। প্রথম দশ বছর তারা কাজ করেন এই বিষয়ের ওপর চিন্তা ও ধারণাগুলো নিয়ে। এর পরের দশ বছর গবেষকরা প্রযুক্তি উন্নয়ন করেন। আর গত দশকে তারা টেলিস্কোপের নকশা, প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তা, অর্থায়ন এবং কয়েকটি দেশ নিয়ে একটি সংস্থা তৈরির কাজ করেন।

এই টেলিস্কোপের সাহায্যে ৫০ মেগাহার্টজ থেকে ২৫ গিগাহার্টজ পর্যন্ত তরঙ্গ পাঠানো যাবে মহাকাশে। এছাড়াও মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রেডিও তরঙ্গও ধরতে সক্ষম হবে এটি। ফলে শত শত কোটি আলোকবর্ষ দূরের কোনো মহাজাগতিক সূত্র থেকে যদি কোনো তরঙ্গ পাঠানো হয়ে থাকে, তাও ধরা যাবে এই টেলিস্কোপে। পাশাপাশি বিগ-ব্যাং ঘটার কয়েক হাজার বছর পরে ছোড়া তরঙ্গও ধরা সম্ভব হবে। ফলে মহাবিশ্বে আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, এই প্রশ্নে উত্তর পাওয়া সহজ হবে।

মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি যে উপাদানটির অস্তিত্ব আছে সেটি হলো হাইড্রোজেন। উপাদানটির বহু ব্যবহার ও কার্যকরিতা থাকলেও আমরা এর সম্পর্কে এখনো অনেক কিছুই জানি না। তাই বর্হিজাগতিক প্রাণী খোঁজা ছাড়াও, এই টেলিস্কোপের আরেকটি কাজ হবে হাইড্রোজেনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস খুঁজে বের করা।

জ্যোর্তিবিদ্যার বিভিন্ন অঙ্গনে এই টেলিস্কোপটি অসাধারণ অবদান রাখতে পারবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। তারা মূল টেলিস্কোপটির মতোই ছোট আয়তনের টেলিস্কোপ নিয়ে এখন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আয়তন বাড়াতেই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছেন তারা। কাজ সম্পূর্ণ করতে খরচ হবে প্রায় ২১০ কোটি ডলার। ২০১৮ সাল নাগাদ প্রায় ৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে টেলিস্কোপটি। এই উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু কৃষি জমিও অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ইতালি, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ডসহ মোট আটটি দেশ এই প্রকল্পের অংশীদার হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই টেলিস্কোপ নির্মাণে অদূর ভবিষ্যতে অংশ নেবে ভারত, জাপান, কানাডা ও জার্মানিসহ আরও কয়েকটি দেশ। 

Link copied!