লরিতে লুকিয়ে ফ্রান্সে যাওয়ার চেষ্টা

২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার, পাচারচক্রের ৫ জন গ্রেপ্তার


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার, পাচারচক্রের ৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্য থেকে লরিতে লুকিয়ে অবৈধভাবে ফ্রান্সে প্রবেশের চেষ্টাকালে ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং ৩০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)।

কীভাবে ঘটলো উদ্ধার অভিযান
এনসিএ জানায়, গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি লন্ডন থেকে ডোভার ফেরিঘাটের দিকে যাওয়া একটি লরির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কেন্ট কাউন্টির উইটস্ট্যাবল এলাকায় সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় লরির ভেতরে লুকিয়ে থাকা ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়, যারা যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ২৩ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২২ জন যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একজনের অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় তাকে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পাচারচক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার
এই ঘটনায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে লন্ডনের নিউ ক্রস এলাকার এক নারীকে পাচারচক্রের মূল সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া তিনজন ট্যাক্সিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা লন্ডন থেকে বাংলাদেশিদের কেন্ট এলাকায় পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে পাচারের কাজে ব্যবহৃত লরির রোমানিয়ান চালককেও আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় পাচারচক্রের কাছ থেকে ৩০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যা পাচার কার্যক্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ বলে মনে করা হচ্ছে।

সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি
ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির ব্রাঞ্চ কমান্ডার সাজু শাসিকুমার গণমাধ্যমকে বলেন, "মানবপাচার চক্রগুলো শুধু মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয় না, বরং যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি সৃষ্টি করে।"

তিনি আরও বলেন, "এই ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে এনসিএর অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা এসব অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"

মানবপাচারের ঝুঁকি ও বিপদ
লরিতে লুকিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে এ ধরনের ঘটনায় অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। লরির ভেতরে অক্সিজেন স্বল্পতা, চরম তাপমাত্রা এবং দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। মানবপাচারকারীরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মানুষকে এ ধরনের বিপজ্জনক পথে ঠেলে দেয়।

যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করে দিয়েছে যে, এ ধরনের অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা উচিত নয়। বৈধ প্রক্রিয়ায় ভ্রমণ ও অভিবাসনের পথই নিরাপদ।

এনসিএর অভিযান অব্যাহত
এই গ্রেপ্তার ও উদ্ধার অভিযান যুক্তরাজ্যের মানবপাচার বিরোধী অভিযানের অংশ। এনসিএ জানিয়েছে, তারা ইউরোপের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র ভাঙতে কাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এই ঘটনা বাংলাদেশিদের মধ্যে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে নতুন করে সতর্কতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি পথে অভিবাসনের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা জরুরি।

Link copied!