• ঢাকা
  • বুধবার, ১২ জুন, ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

আনারের লাশ পাশে রেখে খুনিরা বিরিয়ানি খান, আর শিলাস্তি তখন...


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৪, ০৩:৩১ পিএম
আনারের লাশ পাশে রেখে খুনিরা বিরিয়ানি খান, আর শিলাস্তি তখন...
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার সময় কলকাতার সেই ফ্ল্যাটে ছিলেন শিলাস্তি রহমান। হত্যা মিশন সফল হওয়ার পর ঢাকায় ফিরে শাহীনের ফ্ল্যাটে পার্টিতেও অংশ নেন তিনিসহ অপরাধীরা। পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান হারুন অর রশীদ এমনটিই জানিয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা ছয়টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। এগুলো আনার কেন একা গেলেন, সীমান্ত অতিক্রম করার সময় তার এক মিনিটের ভিডিওটি কে করেছে, আনারের কাছে শুধু একটি ছোট ব্যাগ ছিল কেন, কলকাতা যাওয়ার সময় তিনি কী ধরনের গাড়িতে করে গেছেন, ওই সময় গাড়িতে আর কে ছিল এবং গোপাল নামে যে বন্ধু আছেন, তার সঙ্গে কী বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে? এ বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করছেন তারা।

জড়িতদের মধ্যে শিমুল ছাড়া ফয়সাল আলী ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমান বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা ৮ দিনের রিমান্ডে আছেন। পশ্চিমবঙ্গে কসাই জিহাদ গ্রেপ্তার হলেও সিয়াম ও মুস্তাফিজুর রহমানকে আটক করা যায়নি। জুবের নামের এক ট্যাক্সিক্যাব চালকে কলকাতা সিআইডি আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মুম্বাই থেকে ভাড়া করা কসাই বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা জিহাদ ১২ দিনের রিমান্ডে রয়েছে।

মরদেহ পাশে রেখে বিরিয়ানি খান খুনিরা

আনারকে হত্যা করার পর তার দেহ ৮০ টুকরো করা হয়েছিল। মাথা দুই ভাগ করে কিমা করে কসাই জিহাদ। তারপর দেহাংশে মেশানো হয় রাসায়নিক, ব্লিচিং ও হলুদের গুঁড়া। সেগুলো আলাদা আলাদা প্যাকেটে ভরেছিল জিহাদ ও তার সহযোগী সিয়াম।

কলকাতার নিউ টাউনের অভিজাত আবাসিক এলাকা সঞ্জিভা গার্ডেনের অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে ১৩ মে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আনার। হত্যার পর শরীরের বিভিন্ন অংশ টুকরা টুকরা করার পরও ঘাতকদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা হয়নি। উল্টো তারা লাশ পাশে রেখেই বিরিয়ানি খেয়েছেন, মদ পান করেছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হত্যার পর আনারের মরদেহ ফ্ল্যাটের বাথরুমে নেওয়া হয়। সেখানেই টুকরা টুকরা করা হয় তাকে। বাথরুমে যেন হত্যার কোনো আলামত না থাকে, সে জন্য পানি এবং ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে পরিষ্কার করা হয়। তা ছাড়া রক্তের যেসব ছোপ ছোপ দাগ রুমে লেগেছিল, সেগুলো মুছে ফেলতে পুরো ফ্ল্যাটটি পরিষ্কার করা হয়।

আনোয়ারুল খুনের পর সোজা ঢাকার বিমান ধরে কলকাতা থেকে ফেরেন শিলাস্তি। বিমানবন্দর থেকে চলে যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়, শাহীনের অভিজাত ফ্ল্যাটে। এমপিকে খুন করে সফল হওয়ায় ওই রাতেই শাহীন সেখানে পার্টির আয়োজন করেন। ঘটনা জানাজানি হতেই দুই হত্যাকারীর সঙ্গে শিলাস্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

Link copied!