• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ১১ শা’বান ১৪৪৫

আ.লীগের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা আজ, বাদ পড়তে পারেন ৩০ এমপি


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৩, ০৮:৫২ এএম
আ.লীগের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা আজ, বাদ পড়তে পারেন ৩০ এমপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির মনোনীত প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৩০০ আসনের দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন।

এর পর সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক হবে। এতে মনোনয়ন-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

এর আগে, এদিন সকালে গণভবনে ৩ হাজারের বেশি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীকে মতবিনিময়ে ডেকেছেন দলটির সভাপতি। সেখানে দল ঘোষিত প্রার্থীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ব্যাপারে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন তিনি। সব দ্বন্দ্ব-কোন্দল ভুলে টানা চতুর্থবারের মতো দলকে ক্ষমতায় আনতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশনাও দেওয়া হবে।

শনিবার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রার্থী মনোনয়নের মধ্য দিয়ে সব আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির। এর আগে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দু’দিনে চূড়ান্ত করা হয় অন্য ছয় বিভাগের প্রার্থীর নাম।

এদিকে, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে চলছে নানা গুঞ্জন। কাকে কোন আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। যদিও প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কঠোর গোপনীয়তা নিয়েছে। তবু অনেক আসনে নিশ্চিত হওয়া প্রার্থীদের নাম প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। অযোগ্যতা, অদক্ষতা, জনপ্রিয়তা হারানো, দুর্নীতি-অনিয়ম, দলীয় কোন্দলে জড়ানোসহ নানা কারণে আওয়ামী লীগের বর্তমান ২৫৯ এমপির মধ্যে অন্তত ৩০ জন বাদ পড়েছেন। তাদের বদলে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক এমপিদের অনেককেই। তারকাজগতের কয়েকজনসহ প্রার্থী করা হয়েছে তরুণদেরও।

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রার্থী চূড়ান্ত
আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের তৃতীয় দিনের বৈঠকে গতকাল চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ৭৭ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। প্রথমে সিলেট বিভাগের ১৯টি এবং পরে চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়। এদিনও মনোনয়নের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন পুরোনো এমপিকে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার প্রথম এবং শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে ছয়টি বিভাগের ২২৩ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছিল আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড। এর মধ্যে প্রথম দিনে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ৭২টি এবং দ্বিতীয় দিন দুই দফায় খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের ১৫১টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

কারা বাদ পড়ছেন
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু আসনের বর্তমান এমপিরা বাদ পড়েছেন। এই সংখ্যা ৩০ জনের কম হবে না। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন– পঞ্চগড়-১ আসনে মজহারুল হক প্রধান, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে অধ্যাপক মেরিনা জামান কবিতা, মাগুরা-১ আসনে সাইফুজ্জামান শিখর, যশোর-২ আসনে নাসির উদ্দিন, বরিশাল-২ আসনে শাহে আলম, বরিশাল-৪ আসনে পংকজ নাথ, ঢাকা-১০ আসনে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ঢাকা-১৩ আসনে সাদেক খান, সুনামগঞ্জ-১ আসনে মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সিলেট-৫ আসনে হাফিজ আহমেদ মজুমদার, হবিগঞ্জ-১ আসনে গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী, চাঁদপুর-২ আসনে নূরুল আমিন রুহুল, জামালপুর-৫ আসনে মোজাফফর হোসেন, নেত্রকোনা-১ আসনে মানু মজুমদার, টাঙ্গাইল-৫ আসনে সানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনে আতাউর রহমান খান, রাজশাহী-১ আসনে মো. ফারুক চৌধুরী এবং কুড়িগ্রাম-১ আসনে আছলাম হোসেন সওদাগর।

এদিকে, ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেন বুলবুলের বদলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও এই আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নেত্রকোনা-২ আসনে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীকের বদলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। বুলবুল ও বেলাল অবশ্য এবার দলীয় মনোনয়ন চাননি। এ ছাড়া ঢাকা-৫ আসনের বর্তমান এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বদলে এই আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজলকে প্রার্থী করা হয়েছে।

অসুস্থতার কারণে নির্বাচন করতে সম্মত না হওয়ায় রংপুর-৫ আসনের বর্তমান এমপি এইচ এন আশিকুর রহমানের ছেলে রাসেক রহমানকে এবার প্রার্থী করা হচ্ছে। একই কারণে ঢাকা-৭ আসনের বর্তমান এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের বদলে তার ছেলে ইরফান সেলিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এবার অবশ্য হাজী সেলিম এবং তার দুই ছেলেই দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

এছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনে আছলাম হোসেন সওদাগর ও রাজশাহী-৪ আসনে প্রকৌশলী এনামুল হকও বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এনামুল হক আবারও দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।

যে কারণে বাদ পড়লেন

মনোনয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, এর আগে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি দলীয় সংস্থার মাধ্যমে সব আসনে জরিপ করিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই জরিপের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা হারানো ও অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা, অদক্ষতা, দলীয় কোন্দল, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত এমপিদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থতা ও বয়সজনিত কারণেও কেউ কেউ বাদ পড়ছেন।

অন্যদিকে, জরিপে সব সম্ভাব্য প্রার্থীর দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, করোনাকালে সংকটসহ অতীত অবদান, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা, দলীয় ভোটারসহ মোট ভোটারের মধ্যে জনপ্রিয়তা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত কিনা এবং সবল বা দুর্বল দিক এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে আসনভিত্তিক প্রার্থীর মধ্যে ১০০ নম্বরের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন, তাঁকেই এবার দলীয় প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, যাদের জনপ্রিয়তা নেই, কিংবা জয়ী হতে সক্ষম নন, তারাই বাদ পড়েছেন। একইভাবে তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয় ও জয়লাভে সক্ষম ব্যক্তিকে দল প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তার আগের সংসদের ৫৬ এমপি দলীয় মনোনয়ন পাননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার আগের সংসদের ৪৯ জনকে (মন্ত্রীসহ) মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় আজ

রোববার সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগের সব মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে সব মনোনয়নপ্রত্যাশীকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, মনোনয়ন ফরমের রিসিভ কপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন ফরমের ফটোকপিসহ সভায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ৩০০ আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৬২টি।

যা বললেন ওবায়দুল কাদের 

শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির কার্যালয়ে এসেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক দলের নেতাদের সঙ্গে আগামী নির্বাচন ও দলীয় মনোনয়ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এর পর সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের জানান, মনোনয়নের ব্যাপারে শরিকদের কথা এখনই আমরা ভাবছি না। যাদের জনপ্রিয়তা আছে, তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নতুন-পুরোনো মিলিয়েই আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি। যেখানে পুরোনোরা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন, সেখানে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। ইলেকট্যাবল ক্যান্ডিডেট যারা, সেটাই হচ্ছে বিচারের মানদণ্ড। এ ছাড়া কতজনকে বাদ দেব, কতজন রাখব–ধরনের সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। আমাদের মাথায় রয়েছে কাকে দিলে আমাদের দল নির্বাচনে জনগণের কাছে অধিকতর যোগ্য হবে।

Link copied!