বিএনপির আন্দোলনে অর্ধেক পরাজয় হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, “যারা বলেছিল ‘নয়াপল্টনে সমাবেশ করবই। আজ তারা গোলাপবাগে। তাহলে পরাজয় কার হলো? আমাদের না বিএনপির?”
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের অপশক্তির বিরুদ্ধে খেলা হবে জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, “খেলা হবে আন্দোলনে, বিজয়ের মাসে খেলা হবে। নির্বাচনে খেলা হবে। আপনারা প্রস্তুত আছেন? আজকে ঢাকা সিটিতে পা দিয়ে বুঝতে পারলাম আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সৈনিকেরা প্রস্তুত। খেলা হবে রাতে ব্রাজিলের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়া, আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস।”
ঢাকায় বিএনপির নেতার্মীরা সমাবেশে লাঠি বা আগুন নিয়ে এলে ‘খেলা হবে’ বলে সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। কাতারের পাশাপাশি বাংলাদেশেও অপশক্তির বিরুদ্ধে খেলা হবে। লাঠি বা আগুন নিয়ে এলে খেলা হবে। অনেক ছাড় দিয়েছি, আর ছেড়ে দেবো না।”
তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে গোটা বাংলাদেশ গিলে খাবে। তাদের সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। বিএনপির ক্ষমতায় আসার রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উবে যাবে। বিএনপি আজ বলে সরকার না কি ভয় পেয়ে গেছে। সরকার ভয় পেয়েছে? এখানে নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণের সভা, এদিকে নবাবপুর, সেদিকে গুলিস্তানে বায়তুল মোকাররম। বিশাল সমাবেশ মাত্র ঢাকা দক্ষিণ করেছে।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সাংবাদিক বন্ধুরা সত্যটা তুলে ধরুন। কিছু কিছু মিডিয়া বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য নেমেছে। তারা কারা, সময় মতো জবাব পাবে। কোনো কোনো মিডিয়া, রাতে ও সকালে দেখলে মনে হয় না এখানে আর কোনো দল আছে।”
তিনি বলেন, “সমাবেশের নামে রাজধানীতে বিএনপি-জামায়াত যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সেই জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সব জায়গায় সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। অগ্নি সন্ত্রাসীদের থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে। জানমাল নিরাপদ রাখতে হবে। তারা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক। প্রস্তুত হয়ে যান।”
কূটনৈতিকদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, “বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি যারা আমাদের দেশে আছেন। বন্ধু দেশের প্রতিনিধিরা কারও পক্ষ নেবেন না। আমাদের ঘরের ভেতরে হস্তক্ষেপ করবেন না। আমরা জানি, কীভাবে গণতন্ত্র রক্ষা করতে হয়। আমি বলিনি, মেঘ চলে যাবে। সমাধান হবে, হয়েছে।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী। সমাবেশের সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।
এতে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, মো. শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস ও যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।





















