প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ধামাকা শপিং’-এর চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) সিরাজুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক (এএসপি) আ ন ম ইমরান খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পশ্চিম থানার উত্তর আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. শামীম খান ‘ধামাকা শপিং’য়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম ডি জসিমউদ্দিন চিশতীসহ (৫৭) কয়েকজনের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম আলী ওরফে মোজতবা আলী (৬০), সিওও সিরাজুল ইসলাম (রানা), প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা দেবকর দে শুভ (৩২), হেড অব অ্যাকাউন্টস সাফোয়ান আহমেদ (৪১), উপব্যবস্থাপক আমিরুল হোসাইন (৪৬), সিস্টেম ক্যাটাগরি হেড ইমতিয়াজ হাসান (৩৫), ভাইস প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম স্বপন (৩৫), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নীরদ বরণ রায় (৪৫), প্রতিষ্ঠানের কর্মী নাজিম উদ্দিন আসিফ (২৮) ও আসিফ চিশতী (২৬)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ মার্চ অনলাইনে ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত ধামাকা শপিং ডটকমের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভার্চ্যুয়াল সিগনেচার কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কেনার অফার দেওয়া হয়। শামীম খান অনলাইনে অফারটি দেখে প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করার পর তাকে জানানো হয়, অর্ডার করলে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। সে অনুযায়ী ৮৪টি ইনভয়েসের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি।
কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে অপেক্ষা করতে বলে। এক মাস অপেক্ষা করার পর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের (অপারেশন) স্বাক্ষর করা একটি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেওয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। গত ৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সিওও সিরাজুল ইসলামের কাছে যাওয়ার পর তিনি টাকা না দিয়ে তাকে হুমকি দেন। পরে ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে গিয়ে দেখেন অফিস তালাবন্ধ।
































