• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

ঠেলাগাড়িতে টাকা নিয়ে যেতে হয় বাজারে!


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৩, ০৭:২২ পিএম
ঠেলাগাড়িতে টাকা নিয়ে যেতে হয় বাজারে!

টাকার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা হয়, এটাই স্বাভাবিক রীতি। কিন্তু এমনও কি হয় যে, বস্তা ভরে টাকা নিয়ে যাওয়া হয় কেবল টাকা কেনার জন্য? অবাক হচ্ছেন! হ্যাঁ, আপনি ঠিক শুনেছেন। এমন একটি দেশ রয়েছে, যেখানে টাকা দিয়ে কিনতে হয় টাকা। সেই টাকাও অনেকটা আলু, পটোল কেনার মতো লাইন দিয়ে কিনে নেয় মানুষ।

আফ্রিকার ছোট্ট দেশ সোমালিল্যান্ডে রয়েছে বিচিত্র এই বাজার। সেখানে কেজি দরে বিক্রি হয় টাকা। তবে সেই টাকা জাল নয়। একেবারে আসল টাকা। যা দিয়ে দৈনন্দিন চাহিদার ভিত্তিতে পণ্য কিনে থাকে মানুষ। খোলা রাস্তায় দিন-দুপুরে ক্রেতারা রাশি রাশি নোট বিনিময় করে এখানে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনতে গেলে টাকার বস্তা নিয়ে বের হতে হয় এখানে। এর পেছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। এ রকম অদ্ভুত বাজার গড়ে ওঠার পেছনে সোমালিল্যান্ডের আর্থিক কাঠামোই দায়ী। এখানকার মুদ্রাকে বলা হয় ‘শিলিং’। যার দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
২০০০ সালে এক ডলার ছিল ১০ হাজার শিলিংয়ের কাছাকাছি। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে ৯ হাজার শিলিংয়ের সমান ছিল এক ডলার। তাই ডলার বা ইউরোর নিরিখে সামান্য খরচ করলেই পাওয়া যেত কয়েক কেজি নোট! তবে বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের দাম ৫৮১ শিলিংয়ের কাছাকাছি।

সোমালিল্যান্ডে টাকার দাম এতই কম যে, এই টাকার বাজারে নিরাপত্তা নেই। এমনকি ছিনতাইকারী, চোর, ডাকাতও এই ‘শিলিং’ চুরি করতে আগ্রহ দেখায়নি। তাই রাস্তার পাশে পথের ওপর ‘শিলিং’ ফেলে রেখে বিক্রি হলেও কোনো অসুবিধা হয়নি।

 

এ দেশে কেউ একটি সিগারেট কিনতে চাইলে খরচ করতে হয় ৫০০ শিলিং! বাজারের ব্যাগ ভরে সবজি কিনতে চাইলে সঙ্গে নিয়ে যেতে হয় এক ব্যাগ ভর্তি শিলিং। আর যদি কেউ মূল্যবান গয়না কিনতে চায়, তাহলে যে পরিমাণ সোমালিল্যান্ড শিলিং প্রয়োজন হবে, তা হাতে কিংবা ব্যাগে নয়, বরং ঠেলাগাড়িতে করে নিয়ে যেতে হবে!
এসব কারণেই সোমালিল্যান্ডের রাস্তাঘাটে প্রায়ই ঠেলাগাড়ি ভর্তি টাকা নিয়ে অধিবাসীদের যাতায়াত করতে দেখা যায়।   
এ দেশে আমাদের মতো ৫ টাকা বা ১০ টাকার মতো ক্ষুদ্র অঙ্কের নোট নেই। রয়েছে ১০০, ৫০০, ১০০০ ও ৫০০০ টাকার নোট।   
তবে এত টাকার নোট বহন করা অসুবিধা বলে, দেশটিতে মোবাইল ব্যাংকিং প্রচলিত আছে। 
দোকানে গিয়ে অনেকেই টাকার নোটের পরিবর্তে এখন মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে।

Link copied!