হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে মিত্রদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর সতর্কতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, গ্রিস ও ইতালি।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, লোহিত সাগরে ইইউর নৌ অভিযান জোরদারের প্রতি সমর্থন জানায় ইতালি। তবে আমি মনে করি না, এই অভিযানগুলোর আওতায় হরমুজ প্রণালিকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু এগুলো জলদস্যু-বিরোধী ও প্রতিরক্ষামূলক মিশন।
লুক্সেমবার্গের উপপ্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেল বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্ল্যাকমেইলের’ কাছে নতি স্বীকার করে যুদ্ধে যোগদান করবে না। আমরা স্যাটেলাইট ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাজে লাগতে পেরে খুবই খুশি। তবে সেনা ও সরঞ্জামের জন্য আমাদের আহ্বান করবেন না।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার জ্বালানির দামবৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ট্রাম্পের আহ্বানে শীতল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যেকোনো ধরনের সামরিক সম্পৃক্ততার ফলে মিত্র দেশগুলোকে ক্রমবর্ধমান একটি যুদ্ধে টেনে নেওয়া হবে, যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অবৈধভাবে শুরু করেছে।
ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক পরিণতির পাশাপাশি এ যুদ্ধে ইতোমধ্যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরান ও লেবাননে বহু বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, মিত্র দেশগুলো মাইনসুইপার দিয়ে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে অবদান রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপে এ ধরনের জাহাজের সংখ্যা বেশি। ইউরোপীয় দেশগুলো এ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপকে প্রতিহত করে এসেছে, তবে এ অবস্থানের বিচ্যুতিও ঘটতে পারে।
ইইউর পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কালাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যেভাবে ইউক্রেন বিশ্বে তাদের শস্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

































