• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১, ৬ মুহররম ১৪৪৫

শ্রীলঙ্কায় এমপিদের দেশত্যাগের চেষ্টা, বিমানবন্দর অবরোধ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২২, ০৭:৩৯ পিএম
শ্রীলঙ্কায় এমপিদের দেশত্যাগের চেষ্টা, বিমানবন্দর অবরোধ
ছবি : ডেইলি মিরর শ্রীলঙ্কা

অর্থ ও রাজনৈতিক সংকটের কবলে পড়ে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। বিক্ষোভের মধ্যে দেশের প্রেসিডেন্টের পৈতৃক বাড়ি, সাবেক মন্ত্রী ও কয়েকজন সাংসদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এবার দেশের এমপিদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিমানবন্দর সূত্রের বরাতে শ্রীলঙ্কার স্থানীয় ট্যাবলয়েড সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর বলছে, মঙ্গলবার (১০ মে) কয়েকজন সংসদ সদস্য দেশত্যাগ করার চেষ্টা করেন। তাদেরকে রাস্তা থেকে ফিরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীরা রাস্তার ওপরে গাড়ি পার্কিং করে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ অবরোধ করে রেখেছে।

কাতুনায়েকে ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) থেকে বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিআইএ) প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একদল বিক্ষোভকারী এই পথ অবরোধ করেন। দেশের সংসদ সদস্যদের দেশ ত্যাগ ঠেকাতে তারা এই পথ অবরোধ করেন।

এদিকে সোমবার শুরু হওয়া সংঘর্ষের মধ্যে দুপুর পদত্যাগ করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কলম্বো গ্যাজেট বলেছে, মঙ্গলবার (১০ মে) ভোরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন টেম্পল ট্রিস ছেড়ে হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে ত্রিনকোমালি নৌবাহিনী ঘাঁটিতে আশ্রয় নেন মাহিন্দা ও রাজাপাকসে পরিবার।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ের খবর শুনে নৌ ঘাঁটির সামনে জড়ো হয়েছেন সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা। মাহিন্দাকে ঘাঁটি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাইরে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবারের সংঘর্ষের সময় রাতে উত্তেজিত জনতা মাহিন্দা রাজাপাকসের বাসভবন ঘেরাও করেন। পরে তারা হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। হামলাকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী বাতাসে ফাঁকা গুলি চালায়। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এদিন সংঘর্ষের মধ্যে দুপুরে পদত্যাগপত্র জমা দেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার পদত্যাগের বিষয় সন্ধ্যায় গ্যাজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এরপর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন।

সোমবার দেশব্যাপী সরকার পক্ষ ও বিরোধীদের সংঘর্ষে পুলিশ ও এমপিসহ ২৬৩ জন হতাহত হয়েছেন। এরমধ্যে নিহত হয়েছেন ৭ জন। আহত হয়েছেন আরো ২৫৬ জন।

দক্ষিণ এশিয়ার ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কা। এই দ্বীপরাষ্ট্র ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্যও প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রারও ঘাটতি রয়েছে।

দেশটি বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে। বিক্ষোভ দমনে কয়েক দফা কারফিউ ও জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার। এখনো দেশজুড়ে কারফিউ চলছে। সোমবার শুরু হওয়া সরকারপক্ষ ও বিরোধীদের সংঘর্ষ দমনে ফের কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এদিন সন্ধ্যার পর দেশের প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও তার তার ভাই সদ্য পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পৈতৃক বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষুব্ধ জনতা আরও বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীর বাড়ি ও সম্পত্তি পুড়িয়ে দিয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ড. রমেশ পাথিরানা, সনৎ নিশান্থ, নিমল লাঞ্জা ও কাঞ্চনা উইজেসেকের বাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়া হয়।

সিলন টুডে বলছে, কুরুনেগালা জেলার সাংসদ ও সাবেক মহাসড়কমন্ত্রী জনস্টন ফার্নান্দোর বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। সাংসদ নিমল লাঞ্জা, বাদুল্লা জেলার সাংসদ তিসা কুত্তিয়ারাচ্চি, শিক্ষামন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রী রমেশ পাথিরানার বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছিল। তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

মোরাতুয়ার মেয়র সামানলাল ফার্নান্দোর উইলোরাওয়াট্টার বাসভবন, মোরাতুওয়া ও পুত্তলামে সাংসদ সনৎ নিশান্তের বাসভবনেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

Link copied!