• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১, ৬ মুহররম ১৪৪৫

যৌন হয়রানি বন্ধে ইন্দোনেশিয়ায় কঠোর আইন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২২, ০৫:১৪ পিএম
যৌন হয়রানি বন্ধে ইন্দোনেশিয়ায় কঠোর আইন

দীর্ঘ ৯ বছরের প্রচেষ্টার পর যৌন সহিংসতা মোকাবেলায় যুগান্তকারী আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়া। ২০১২ সালে প্রথমবার আইনটি প্রস্তাব করা হলেও রক্ষণশীল মুসলিমদের বিরোধিতার মুখে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে এর ভবিষ্যৎ।

তবে আলোচনা শুরুর ছয় বছর পর ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট যৌন সহিংসতা মোকাবেলায় নতুন আইন পাসে সফল হয়েছে। আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয়ের ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের অপরাধের জন্য ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সাজা রাখা হয়েছে।

যৌন নিপীড়নের জন্য ১৫, বাল্যবিবাহসহ জোরপূর্বক বিয়ের জন্য নয় বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত্ত ও আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও প্রচারের জন্য চার বছরের কারাদণ্ডের সাজাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আইনে।

মঙ্গলবার আল-জাজিরা জানায়, পার্লামেন্ট অধিবেশনে বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা আইনটিকে সমর্থন জানান। এর মাধ্যমে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। স্পিকার পুয়ান মাহারানি বলেন, “আমরা আশা করছি এই আইনের প্রয়োগের ফলে যৌন সহিংসতার অনেক মামলার সমাধান হবে।”

আইনে বলা হয়, অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত অবশ্যই তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করবে এবং ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দিতে বাধ্য করবে। তবে আইনটিতে গর্ভপাত ও ধর্ষণ নিয়ে পরিষ্কার সংজ্ঞা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাই কেউ কেউ এর সীমাবদ্ধতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। নতুন আইনে নির্দিষ্ট কিছু যৌন অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করছেন সমালোচকেরা। এছাড়া ধর্ষণ সংক্রান্ত আগের আইনের একটি নির্দিষ্ট ধারা নতুন আইনে বাদ দেওয়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন অনেকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়ায় যৌন সহিংসতা বেড়েই চলেছে। ২০১২ সালে ১৩ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীর মর্মান্তিক গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর দেশটিতে যৌন নির্যাতনের আইন সংশোধনের আহ্বান জানায় সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

Link copied!