বন্ধুকে বিদায় জানাতে এসে অঝোরে কাঁদলেন আবুল হায়াত


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২১, ০১:১৭ পিএম
বন্ধুকে বিদায় জানাতে এসে অঝোরে কাঁদলেন আবুল হায়াত

প্রিয় বন্ধু ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে বিমর্ষ আবুল হায়াত। শহীদ মিনারে এসেছিলেন তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে। মরদেহ পৌঁছানোর আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কোলাহল ঠেলে যখন শ্রদ্ধাঞ্জলির খাতাটি ধরলেন তখন আবুল হায়াতের চোখে-মুখে বেদনার ছাপ স্পষ্ট। খাতার পাতা ওল্টাচ্ছিলেন কিন্তু কিছু লিখতে পারছিলেন না। যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এরকম বিষাদময় এক মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হবে— সেটা হয়ত তিনি ভাবেননি।

কাঁপা কাঁপা হাতে আবুল হায়াত লিখলেন— আমাদের বন্ধুত্ব ৫৫ বছরের। আনন্দের এই সংখ্যাটি এখন শুধুই শোকের।

ড. ইনামুল হকের মরদেহ যখন শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য রাখা হলো তখন আবুল হায়াতকে আর সামলানো যাচ্ছিল না। ফুল নিয়ে বন্ধুর মরদেহের সামনে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কোনোভাবে ফুল দিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। তার মেয়ে নাতাশা পাশে এসে দাঁড়িয়ে কিছুটা সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোনো সান্ত্বনাই যে বন্ধু হারানোর বেদনা ভোলাতে পারবে না।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শ্রদ্ধাঞ্জলি মঞ্চের পেছনে চেয়ারে কিছুক্ষণ বসেন তিনি। কথা বলেননি কোনো গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে। একা নিরবে চোখের জল বেয়ে পড়েছে তার চোখ থেকে।

এদিকে ড. ইনামুল হকের মরদেহে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এছাড়া শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডাক্তার জাফরুল্লাহ, অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি, তানজিকা, নাতাশা হায়াত, মোমেনা চৌধুরী, বৃন্দাবন দাস, মীর সাব্বির, নির্মাতা অরণ্য আনোয়ারসহ অনেকে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইনামুল হকের দুই জামাতা অভিনেতা লিটু আনাম ও সাজু খাদেম এবং দুই মেয়ে হৃদি হক ও প্রৈতি হক।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শহীদ মিনারের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে এই নাট্যজনকে।

Link copied!