• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১, ১২ মুহররম ১৪৪৫

পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে ঢাবিতে ‘যেমন খুশি তেমন পরো’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২২, ০৯:১৯ এএম
পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে ঢাবিতে ‘যেমন খুশি তেমন পরো’

পোশাকে বৈচিত্র্যকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘যেমন খুশি তেমন পরো’ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একদল শিক্ষার্থী। ‘বৈচিত্র্যই সাধারণ, বৈচিত্র্যই বাংলাদেশ’; ‘বস্তু পোশাককে ক্ষমতা দিল কে?’ ‘তনু কেন ধর্ষিত হলো?’ ‘সংস্কৃতি কারও বাপের না’ ‘আমি বলি না নিপাত যাক বলি সব থাক’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘যেমন খুশি তেমন পরো’ নামে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম হালিম মীম বলেন, “কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী হাইকোর্টের কথাকে মিসকোট করে এমনভাবে প্রেজেন্টেশন দিয়েছে যেন হাইকোর্ট পোশাক নিয়ে একটি বিধিমালা দিয়েছে। কিন্তু সেখানে সাধারণ আলোচনা ছাড়া এমন কেনো বিষয় নিয়ে কথাই হয়নি। দেশীয় মূল্যবোধ সময়ের সাথে পরিবর্তন হবে এটা স্বাভাবিক। ব্লাউজ ছাড়া শাড়ি পরার যে ব্যবস্থা এটি বাংলাদেশের আদি সংস্কৃতিকে রিপ্রেজেন্ট করে। আমাদের সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। এটার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং অন্যের অধিকারে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে নিজের অধিকার চর্চা করা আমরা এটিই চাই।”

ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা শারমিন বলেন, “যারা প্রথমে রাজু ভাস্কর্যে দাঁড়িয়েছিল তারা বলেছে স্বাধীনতার নামে আমরা যেসব পোশাক পরতে চাই আমাদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান বাঙালি নারী হিসেবে আমায় স্বাচ্ছন্দ্য, আরাম, আমার কাছে যেটা শালীন মনে হয় সেটা পরার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু যারা এখানে দাঁড়িয়েছিল এবং পরে তাদের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়েছিল তারাই সংবিধানবিরোধী কথা বলছে, আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে, তাদেরই উচিত আইনের আওতায় আনা।”

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অরুণিমা তাহসীন বলেন, “আমরা বলছি বৈচিত্র্যই সাধারণ, তবে এ ক্ষেত্রে এটা প্রয়োজনীয় না এই সাধারণটাকে কারও ভালো লাগতে হবে অথবা খারাপ লাগতে হবে। সাধারণ হলো সাধারণ। অন্যের সৌন্দর্যকে শ্রদ্ধা না করতে পারি, আমরা তাদের ওপর হামলে না পরি, তাকে কটূক্তি না করি। আমরা আহ্বান করেছি বোরকা পরে আসুন, পাঞ্জাবি পরে আসুন, হিজাব পরে আসুন। অর্থাৎ আপনি যাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেটা পরুন। এটাই আমার দেশের বৈচিত্র্য, এটাই আমাদের দেশের সংস্কৃতি।”

উল্লেখ্য, গত ১৮ মে নরসিংদী রেলস্টেশনে এক নারীকে পোশাকের কারণে গালিগালাজ ও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা হলে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করে। তরুণীকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মার্জিয়া আক্তার ওরফে শিলাকে পুলিশ ৩০ মে গ্রেপ্তার করে। শিলার জামিন আবেদনের শুনানিতে উচ্চ আদালত এ বিষয়ে কথা বলেন। সেই মন্তব্যকে গত ২৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানারে কিছু শিক্ষার্থী অভিবাদন ও সাধুবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করে। এর পরেই নর্থ সাউথ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হাইকোর্টের মন্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করা হয়।

Link copied!