• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

শ্রমিকদের অসন্তোষ, ৫ দিন ধরে অচল বুড়িমারী স্থলবন্দর


লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৩, ০৫:৫২ পিএম
শ্রমিকদের অসন্তোষ, ৫ দিন ধরে অচল বুড়িমারী স্থলবন্দর

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম বুড়িমারী স্থলবন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের কারণে ফের বন্ধ রয়েছে পণ্য লোড-আনলোড। টানা ৫দিন লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের শেড, মাঠ ও সড়কজুড়ে শত শত পণ্যবাহী গাড়ির জটলা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেও কোনো সমাধান হয়নি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িমারী স্থলবন্দরে প্রবেশপথে মহাসড়কের একাধিক স্থানে লোড-আনলোড শ্রমিকরা দলে দলে বসে আছেন। শ্রমিকদের দাবি ‘মজুরির টাকা সরদারদের মাধ্যমে দিলে নেবে না। সরাসরি লেবার হ্যান্ডেলিং ঠিকাদার বা প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে’- না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ থাকবে।

এর আগেও ন্যায্য মজুরি না দেওয়া, পারিশ্রমিক কেটে নেওয়া টাকার হিসাব না দেওয়া, নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিক সংগঠনের কমিটি গঠন না করে স্বজনপ্রীতিসহ নানা বৈষম্যের অভিযোগে শ্রমিক সরদারদের বিচার ও পদত্যাগের দাবিতে একাধিকবার লোড-আনলোড বন্ধ রেখে মহাসড়ক অবরোধ ও ধর্মঘট করেন শ্রমিকরা। সব শেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রমিকদের মজুরির টাকা না দেওয়া ও সাধারণ শ্রমিকদেরকে কাজের সিরিয়াল দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও সরদার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে ১৫ জন আহত হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল ইসলামকে প্রায় ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

শ্রমিক অসন্তোষ ও স্থলবন্দরের কার্যক্রমে ব্যাঘাতের ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ স্বাক্ষরিত একটি ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। এ টিমের আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান। অন্য সদস্যরা হলেন- লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) ফরহাদ ইমরুল কায়েস, পাটগ্রাম উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ, বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) গিয়াস উদ্দিন।

এই কমিটি রোববার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সাধারণ শ্রমিকদের ১০ জনের প্রতিনিধি দল ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুজ্জামান সায়েদকে নিয়ে বৈঠক করেও কোনো সমাধান হয়নি।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সমস্যা নিরসনে সরদারপক্ষ, ঠিকাদার ও শ্রমিকপক্ষের মাধ্যমে লোড-আনলোড, মজুরি পরিশোধের কাজ করার প্রস্তাব করা হলে শ্রমিকরা এ প্রস্তাবে রাজি হননি। ফলে কোনো প্রকার সুরাহা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। আবারও এ ধরণের বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, “গঠিত কমিটি ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আমরা শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর চেষ্টা করছি।”

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, শ্রমিকদের প্রতিনিধি ও কমিটির সদস্যদের নিয়ে হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সমাধান হবে।

Link copied!