• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদী ভাঙন


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৩, ০৯:০০ এএম
কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদী ভাঙন

কুড়িগ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। সেইসঙ্গে রয়েছে আগাম বন্যার শঙ্কা। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে এক সপ্তাহে জেলা সদর, চিলমারী, উলিপুর ও রাজারহাটের কয়েক জায়গায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে ইতিমধ্যে মানুষের ভিটে-মাটিসহ কয়েকটি সরকারি স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।  

ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, মানুষজন নিজেদের বসতভিটা, জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকে আগাম বন্যার আতংকে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বসতভিটার অপরিপক্ব গাছ কেটে সরিয়ে ফেলছেন।

রাজারহাট উপজেলার তিস্তা পাড়ের গতিয়াশাম এলাকাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ এলাকায় ২০টির মতো বাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, “১০-১২ দিন থাকি তিস্তার পানি বাড়ব্যেইছে (বাড়তেছে)। হামার ৩টা ঘর ভাঙি নিছে নদী। বাড়ির আগ পাকে (সামনে) ভুট্টার আবাদের সাড়ে ৩ শতাংশ জমি নদীত চলি গেইছে।”

আরেক বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, “তিস্তার পানি যেভাবে বাড়তেছে, তাতে এবার আগত (আগাম) বন্যা হবার পায়। হামার দুইটা পাকা ঘর ভাঙি সরে নিবাইছি, যাতে ইটগুলা রক্ষা করবের পাই।”

এক সপ্তাহে জেলা সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ধরলা নদীর ভাঙনে চর ভগবতিপুর, খেয়ার আলগায় ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভেঙেছে মসজিদ, উপজেলা প্রশাসনের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থাপনা ও সরকারি একটি কমিউনিটি ক্লিনিক।

এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, “এক সপ্তাহের ভাঙনে আমার এলাকার অর্ধশত মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ভাঙন না থামলে আরও বসতি নদীর গর্ভে চলে যাবে। পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে এবার আগাম বন্যার আশংকা আছ।”

উলিপুর ও চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা চরের অনেক বাসিন্দা। এই দুই উপজেলার বেগমগঞ্জ, থানাহাট, নয়ারহাট ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নগুলো ইতিমধ্যে ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসের সম্মুখীন হয়েছে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে এসব ইউনিয়নের চরের বসতিগুলো ছোট হয়ে আসছে। এসব চরের মসজিদ, স্কুলসহ শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এরমধ্যে নয়ারহাট ও রানীগঞ্জের ঝুঁকি সব চেয়ে বেশি।

চিলমারীর চর বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল বলেন, “গেলো বন্যায় আমাদের স্কুলটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ বছর যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে আগাম বন্যা হলে খুব সমস্যা হবে। এবার স্কুলটি কোথায় নিয়ে যাবো, কী করবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত ভাঙন থামানো না গেলে স্কুলটি রক্ষা করা যাবে না।”

বেগমগঞ্জের বাসিন্দা সামসুল মণ্ডল বলেন, “কয়েক দিনের ভাঙনের শতাধিক বাড়িঘর ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়ে গেছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে। যারা সহায়-সম্বলহীন তাদের বিপদ।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ছে। আর কয়েক সপ্তাহ গেলেই বন্যার দেখা দেবে। এমতাবস্থায় চর ভাঙবে এটাই স্বাভাবিক। এক চর ভেঙে আরেক চর গড়ে উঠে। চরাঞ্চলের ভাঙন প্রতিরোধে আমাদের কোনো প্রকল্প নেই। সমীক্ষা ছাড়া প্রতিরক্ষা কাজ সম্ভব নয়, সেটাও টিকবে না। তারপরও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চাইলে আমারা কিছু জিও ব্যাগ দিতে পারি।” ‍‍`

আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন “চরের ভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিক নদী সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়নের ১৩৪ কোটি টাকার বরাদ্দের চাহিদা প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আর সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষার্থে আমরা প্রতিনিয়ত জিও ব্যাগ ফেলছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।”

Link copied!