• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫
পাবিপ্রবি

সেই তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিবির-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি


পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৩, ০৯:৪০ এএম
সেই তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিবির-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি

ছাত্রলীগের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিবির-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে আহত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বুধবার রাত ১০টার দিকে জানান, আহত অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তিন শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে আসার পর তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেয়নি।

ওসি বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে তাদের এলাকা কুষ্টিয়ার মিরপুর, নাটোরের বড়াইগ্রাম ও পাবনার আটঘরিয়া থানার ওসির সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের পারিবারিক অবস্থান ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির-সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো অভিযোগও নেই।”

ওসি কৃপা সিন্ধু বালা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা অন্য কেউ তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেয়নি। তাই বুধবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে তিন শিক্ষার্থীকে তাদের পরিবারের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী গোলাম রহমান জয়কে ছাড়পত্র দেওয়ার পর অভিভাবক নিয়ে গেছে। তবে সব বিষয় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ছাত্রশিবির সন্দেহে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই তিন শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের সভাপতিসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর তাদের শিবিরকর্মী আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছাত্রলীগ ও পাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে তারা। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শাখা ছাত্রলীগ ও পুলিশ কেউ দায় নিচ্ছে না। ছাত্রলীগ ও পাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আর পুলিশের দাবি, শিক্ষার্থীদের আহত অবস্থায়ই উদ্ধার করা হয়।

নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের গোলাম রহমান জয় (২৫), ইংরেজি বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের আসাদুল ইসলাম (২৩) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আজিজুল হক (২৩)।

এদের মধ্যে আসাদুল ইসলাম ও আজিজুল হককে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। আর গোলাম রহমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে আসাদুলের বাড়ি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ষাটগাছা গ্রামে। আজিজুল হকের বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর গ্রামে। আর গোলাম রহমানের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুরে।

আহত শিক্ষার্থীরা বলেন, মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজের পর তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের কাছে এসে দাড়ি, পাঞ্জাবি দেখে শিবির কি না, জানতে চান। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের ধরে হলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামাল হোসেন বলেন, “বেশ কয়েকজন শিবিরকর্মী ক্যাম্পাসে গোপন বৈঠক করছিল। এ সময় তাদের আটক করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে আমরা তাদের উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। তাদের কাছে বিভিন্ন রকম শিবিরের নোটবুক ছিল। কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। নির্যাতনের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা নাজমুল হোসেন বলেন, “প্রক্টর ড. কামাল হোসেনের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। পরে ওই শিক্ষার্থীদের আটক অবস্থায় দেখি। তাদের কাছে থেকে শিবিরের রিপোর্ট বই, ব্যক্তিগত ডায়েরি এবং কিছু মোবাইল ও সিম উদ্ধার করা হয়। পুলিশের কাছে সোপর্দের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদেরকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. ওমর ফারুক বলেন, “প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার ফোন পেয়ে হলে এসে ওই শিক্ষার্থীদের দেখতে পাই। তারা আমার হলের শিক্ষার্থী নয়, ক্যাম্পাসের বাইরে থাকে। তারা নিজেরা শিবির বলে স্বীকারোক্তি দিলে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এখানে ছাত্রলীগ মারধর করেছে কি না জানি না।”

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, “খবর পেয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর নির্যাতিতরা যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Link copied!